জেলা প্রতিনিধি
২৩ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৩০ পিএম
মোঘল আমলের স্থাপনাগুলোর অন্যতম আরিফাইল শাহী জামে মসজিদ। ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত এই মসজিদটির নির্মাণশৈলী এখনও মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার আরিফাইল গ্রামে এ মসজিদের অবস্থান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মসজিদটি দেখতে আসেন অনেকে।
অপরূপ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত আরিফাইল শাহী জামে মসজিদ দেখতে অনেকটা তাজমহলের মতো।
জনশ্রুতি আছে, ১৬৬২ সালে দরবেশ শাহ আরিফ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৮০ ফুট, প্রস্থ ৩০ ফুট। এর চারদিকে চারটি বুরুজ ও তিনটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলোতে পদ্মফুল অঙ্কিত রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রধান ফটক থেকে শুরু করে মসজিদের ভিতরের বিভিন্ন অংশ কারুকার্য যেন মোঘল আমলের উৎকর্ষতার জানান দিচ্ছে। চুন, সুরকি আর ইটের গাঁথুনির সঙ্গে মসজিদের ভেতরে ও বাইরের অপরুপ কারুকাজ সৌন্দর্য আরও ফুটিয়ে তুলেছে। এছাড়া মসজিদটির উত্তর পাশেই বিশালাকৃতির একটি দীঘি রয়েছে। যার নাম সাগর দীঘি।
জনশ্রুতি রয়েছে, সাগর দীঘি থেকে পানি পান করে আগত ব্যক্তিরা রোগমুক্ত হতেন। এছাড়াও মসজিদটির দক্ষিণে রয়েছে দুটি কবর। জোড়া কবর নিয়েও রয়েছে অনেক কল্পকাহিনী।

আরিফাইল গ্রামের বাসিন্দা শের আলম জানান, মসজিদটি কয়েকশ বছরের ইতিহাস বহন করছে। ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনা দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। তবে মসজিদে আসার রাস্তা সরু হওয়ায় দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এটির সমাধান করলে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে মসজিদ দর্শন করতে পারেন বলে জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা সুমন ঠাকুর বলেন, মসজিদটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ অনেক। বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লি আসেন নামাজ আদায় করতে। মসজিদটির উন্নয়নে সরকারিভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।
আব্দুল লতিফ খন্দকার নামে গ্রামের এক বৃদ্ধ বলেন, মসজিদটি ঈশা খাঁ আমলের নির্মিত হয়েছে বলে পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শুনেছি। অনেকেই এটিকে গায়েবি মসজিদ বলে ডাকে। মসজিদের পাশের সাগর দীঘির পানি পান করলে বিভিন্ন রোগ মুক্তি মিলে বলেও জনশ্রুতি আছে।

আরিফাইল শাহী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন মন্তু বলেন, তাজমহলের সাথে আরিফাইল মনজিদের অনেকটাই মিল পাওয়া যায়। মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষণ করেছে। তবে তারা কেবল সাইনবোর্ড টানিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। এর উন্নয়নে তারা তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা স্থানীয়রাই এটির রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকি।

এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরওয়ার উদ্দীন বলেন, আরিফাইল শাহী জামে মসজিদ সারা দেশেই বিখ্যাত। এটির উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। মসজিদে আসার সড়কটি প্রশস্ত করা হবে যেন দর্শনার্থীদের যাতায়াতে আর দুর্ভোগে পড়তে না হয়।
যেভাবে যাবেন আরিফাইল মসজিদে
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল-বিশ্বরোড মোড় নেমে অটোরিকশায় মাত্র ২০ মিনিটেই আরিফাইল শাহী জামে মসজিদে যাওয়া যায়। এছাড়া সরাইল উপজেলা চত্বর থেকেও রিকশাযোগে বা পায়ে হেঁটেও যাওয়া যায় ঐতিহাসিক এ মসজিদে।
প্রতিনিধি/ এইচই