images

সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে পোশাক ও জুতার মার্কেট ফাঁকা, ব্যবসায়ীদের অস্বস্তি

জেলা প্রতিনিধি

২০ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:৩৫ পিএম

ঈদের আর দুদিন বাকি থাকলেও ঠাকুরগাঁওয়ের কাপড় ও জুতার মার্কেটগুলোতে মানুষের সমাগম কম। কমে গেছে বেচাকেনা। অস্বস্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সংসার খরচ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু কিনছেন। অনেকে টেনেটুনে সংসার চালাচ্ছেন। বিক্রি নেই বললেই চলে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, করোনাকালেও বেচাকেনায় এতো ধস নামেনি। গতবারের চেয়ে দোকানগুলোতে এবার বেশি পরিমাণে মাল রাখলেও তেমন ক্রেতা পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটকে দোষারোপ করছেন তারা। 

গতকাল বুধবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার কাপড়ের বৃহত মার্কেট নেকমরদ, পীরগঞ্জ, সদররের গড়েয়া বাজার ও শহরের চৌরাস্তা এবং নর্থ সার্কুলার রোডে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন কাপড় ও জুতার মার্কেটে মানুষের সমাগম তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। 

ভালো বিক্রয়ের আশায় এবার কাপড় ও জুতা ব্যবসায়ীরা দোকানে বেশি করে মাল তুললেও বেচাকেনা কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পার করছেন তারা। ঈদে যে দোকানগুলোতে ক্রেতারা বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে কাপড় দেখত ও ক্রয় করতো, সেসব দোকানে এখন মাত্র দুএকজন করে ক্রেতার সমাগম ঘটছে। এতে ক্রয় করা মালের টাকা পরিশোধে ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

শহরের নর্থ সার্কুলার রোডের সন্তোষ বস্ত্রালয়ের কর্মচারী মো. সফিউল আলাম বাবলু ঢাকা মেইলকে বলেন, কাপড়ের দাম তেমন একটা না বাড়লেও অন্যান্য জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ নিত্যপ্রয়োজনিয় পণ্য ক্রয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে তারা অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে ঈদ মার্কেট ঠিকভাবে করতে পারছেন না। এর ফলে এবার ঈদের বাজারে ধস নেমেছে। 

মিজান এন্ড ব্রাদার্সের কর্মচারী মাসুদ বলেন, গতবার করোনার সময় যে বেচাকেনা হয়েছিল তার থেকে এবার আরও কম। একদিকে প্রচণ্ড গরম আবার বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে দোকানে ক্রেতার সংখ্যা খুবি কম। এমন বেচাকেনায় খুব আতঙ্কে আছি আমরা। মালের টাকা যে কিভাবে পরিশোধ হবে।  

রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারের নবাব ক্লথ স্টোরের দোকানদার মো. জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, জিনি পত্রের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইড়ে চলে গেছে। তাই করোনা কালের থেকেও এবার বিক্রয় হচ্ছে কম। গতবারে যে থ্রিপিসের দাম ছিল হাজার টাকা এবার সেই থ্রি পিসের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২শ টাকায়।

নেকমরদ চৌরাস্তার মায়ের দোয়া সু স্টোরের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন আকাশ বলেন, গতবারের থেকেও এবার দোকানে মাল বেশি রাখলেও বিক্রি খুবই সীমিত। দোকান ক্রেতা শূন্য হয়ে থাকে। ঈদে বিগত কয়েক বছরে এবারের মতো এতো কম বিক্রয় আর একবারও হয়নি। বিক্রয় না হওয়াতে মালের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো এ নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত। ঈদের মাত্র আর দুইটা দিন বাকি!

এছাড়াও সদর উপজেলার গড়েয়া ও পীরগঞ্জ উপজেলার ব্যবসায়ীরাও একই কথা বলেন। 

আর ক্রেতারা বলছেন, সবকিছুর দাম বেশি হওয়ার ফলে এবারে ঈদ মার্কেট তাদের জন্য কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পরিবারের ছোটদের জন্য মার্কেট করার পরে সাধ্য হলে তারা বড়দের জন্য মার্কেট করছেন। 

নেকমরদে কেনাকাটা করতে এসে নূরে আলম নামে এক কাপড় ক্রেতা বলেন, অল্প আয়ের মানুষদের সবকিছুর দাম হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এটা আমাদের জন্য খুব কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ছে। তারপরেও ঈদে পরিবারের প্রিয় মানুষদের জন্য কিছু হলেও দিতে হয়। তাই এখানে কাপড় নিতে এসেছি। কিন্তু দামের কারণে পরিবারের ইচ্ছে অনুযায়ী তাদের চাহিদা পুরন করা সম্ভব হচ্ছে না।

ঠাকুরগাঁও শহরের বাসিন্দা নাদিয়া নর্থ সার্কুলার রোডে কাপড়ের মার্কেটে কাপড় কিনতে এসে ঢাকা মেইলকে বলেন, যে হারে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনের জন্য খুব কষ্টের। স্বল্প টাকার মধ্যেই ঈদের কেনাকাটা করতে হচ্ছে। তাই আগে পরিবারের ছোটদের জন্য কেনাকাটা করছি। তাদের নেওয়া হলে হয়তো বড়দের জন্য কিছু কেনা হবে। দ্রব্যের মূল্য যদি নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো, তাহলে আমাদের সবার জন্যেই ভালো।

পীরগঞ্জ উপজেলার ইউসুফ আলী নামে এক কাপড় ক্রেতা বলেন, দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পরিবারের ছেলে-মেয়েদের চাহিদা অনুযায়ী আমার তেমন কিছু মার্কেট করতে পারছি না। সরকার যদি দ্রব্যমূল্যের দাম একটু কমাইতো, তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো।

প্রতিনিধি/এইচই