জেলা প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৫০ এএম
শেরপুরে শপিংমলগুলোতে দেশি পোশাকের পাশাপাশি নজরে ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাক। এই অঞ্চলের কিশোরী ও তরুণীরা মজেছেন নায়রা, সারারা, গারারা ও সুষমিতা নামের পোশাকে। এছাড়া ক্রপটপ গাউন আর বার্বি গাউন ও টিস্যু কাপড়ের দিকেও ঝুঁকছেন অনেকে। ফ্যাশন সচেতন তরুণীরা পোশাকে সবসময়ই নতুন কিছু চান। তাদের চাহিদার কথা বিবেচনায় বিক্রেতারাও চেষ্টা করেন আকর্ষণীয় কিছু তুলে দিতে।
এদিকে ক্রেতাদের আকর্ষণে শপিংমলগুলো সাজানো হয়েছে বাহারি ডিজাইনের পোশাকের পসরা আর রঙিন আলোকসজ্জায়।
শহরের নয়ানী বাজার, নিউমার্কেট, শহীদ বুলবুল সড়ক ও টাউনহল মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বেশিরভাগই নারী ক্রেতা। এবারে তরুণীদের ক্রেজ হলো নায়রা, সারারা, গারারা ও সুষমিতা ড্রেস। চাঁদের মতো বাঁকা কাটিংয়ের নায়রা পোশাকটি ভারত থেকে আমদানি করা। প্রকারভেদে এই পোশাকটি সর্বনিম্ন ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় মিলছে।

দোকানিরা বলছেন— অন্যবার পবিত্র রমজানের শুরু থেকে বেচাবিক্রি জমে উঠলেও এবার ১৫ রোজার পরে শুরু হয়েছে ক্রেতাদের জোয়ার। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে জমজমাট বেচাবিক্রি। তারা জানায় গতবারের মতো এবারও উঠতি বয়সের তরুণীদের পছন্দে ভিনদেশি পোশাক।
শহরের দোকানিরা ঢাকা মেইলকে জানায়, নায়রা, গারারা, সারারা, সুষমিতা, কাথান ওড়না, ভিক্টোরিয়া, লেহেঙ্গা ও পার্টিগাউন নামের থ্রি-পিচগুলোর চাহিদা বেশি। গত ঈদেও এ পোশাকগুলোর ভালো বিক্রি হয়েছিল। আর বিশেষ করে নায়রা, গারারা, সারারা ও সুষমিতা নামের থ্রি-পিচে মজেছেন উঠতি বয়সের তরুণীরা। এছাড়া গাদোয়াল, মাদুরাই, কাঞ্জিভরণ, সাউথ ইন্ডিয়ান, সফট কাথান, বারিশ, বেনারসি, ঢাকাইয়া জামদানি, ভারতীয় জামদানি, রাজশাহী সিল্ক ও টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িও বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।
শহরের সজবরখিলার বাসিন্দা তাবাসসুম মারিয়া বলেন, আমাদের তিন বোনের জন্যই থ্রি-পিচ নিয়েছি। যেহেতু এবার ঈদে প্রচন্ড গরমের মধ্যে তাই সুঁতি কাপড়ে পাকিস্তানি থ্রি-পিচ নিয়েছি। এবার দামটা বেশিই মনে হচ্ছে।

কলেজ শিক্ষার্থী হাফিজা বিনতে মাশফি বান্ধবীদের নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন নিউমার্কেটে। তারা বলেন, আমরা চার বান্ধবী নায়রা, সারারা, গারারা ও সুষমিতা ড্রেস নিয়েছি। গতবছরও আমরা সারারা ও গারারা নিয়েছিলাম। তবে এবার দাম তুলনামূলক বেশি।
নয়ানী বাজারের পরিমল বস্ত্রালয়ের মালিক বাবলু সাহা ঢাকা মেইলকে বলেন, এবার আমাদের কেনাদরই বেশি পড়েছে। পোশাক তৈরির সকল উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাপড়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। আর এবার ঈদের বেচাকেনা খুব ভালো। বিশেষ করে নারীদের পোশাক হিসেবে থ্রি-পিচের সর্বোচ্চ বিক্রি হচ্ছে। এবার ঈদে পরিমলে ২ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে থ্রি-পিচ এবং ৩ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ভালোমানের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে।
নিউমার্কেটের আইরিন এক্সক্লুসিভ’র স্বত্বাধিকারী আইরিন পারভীন বলেন, এবারও তরুণীদের চাহিদা ভিনদেশি পোশাকে। তবে দেশীয় সুতি কাপড়ের চাহিদাও ব্যাপক।
শহরের অভিজাত বিপণিবিতান মিমোজা শপিংমলের ম্যানেজার রাব্বি ঢাকা মেইলকে বলেন, এবারের ঈদে সব বয়সের ক্রেতাদের চাহিদার বিবেচনায় পছন্দসই পোশাক সরবরাহ করেছি। বেচাবিক্রি ভালোই হচ্ছে।
নিরাপত্তার ব্যাপারে জানতে চাইলে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাইদুর রহমান বলেন, ঈদে নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত কাজ করছে।
প্রতিনিধি/এইউ