images

সারাদেশ

১৫ গ্রামের মানুষের ভরসা রশিটানা নৌকা

জেলা প্রতিনিধি

০৫ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৪৫ এএম

দীর্ঘদিনেও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সানন্দবাড়ি-পাথরের চর সড়কে জিঞ্জিরাম নদীতে সেতু নির্মাণ হয়নি। সেতু না থাকায় উপজেলার চর আমখাওয়া, পাররামরামপুর ও ডাংধরা ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষকে নদী পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন গ্রামগুলোর হাজার হাজার মানুষকে রশি টেনে ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে। দ্রুত নদীটিতে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, জিঞ্জিরাম নদীটি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বৃহৎ হাট সানন্দবাড়ীর পূর্ব পাশ ঘেঁষে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে। এতে পূর্ব পাড়ের নবিনাবাদ, গোয়ালকান্দা, সিলেটপাড়া, চরপাড়া, চরমাদার, মাদারেরচর, চেংটিমারী, কবিরপুর পাথরের চরসহ অনত ১৫টি গ্রামের সাথে সানন্দবাড়ীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। নদীটি সরু হলেও বর্ষাকালে ভরে যায় কানায় কানায়। শুস্ক মৌসুমে নদীতে থাকে সাঁতার পানি। সে কারণে সারা বছর ওই গ্রামগুলোর মানুষদের প্রতিদিনের যাতায়াত হয়েছে ঝুঁকিপূূর্ণ। রশি টেনে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের।

অন্যদিকে ওই গ্রামগুলোতে নেই হাট-বাজার, নেই ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিদিন ওইসব গ্রামের মানুষকে দৈনন্দিন কেনাকাটায় সানন্দবাড়ী হাট-বাজারে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সেই সাথে প্রতিদিন কয়েকশত শিক্ষার্থীদেরকে সানন্দবাড়ী হাই স্কুল, সিনিয়র মাদ্রাসা ও কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পারাপারে প্রতিনিয়ত তাদেরকে পোহাতে হ্েচ্ছ চরম দুর্ভোগ। সেতু না থাকায় পূর্বপাড়ের কয়েকটি গ্রামের মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসাসহ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষকদেরকে উৎপাদিত কৃষি পণ্যও পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় বন্যায় কৃষকদের বাড়ি ঘরেই নষ্ট হচ্ছে তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য।

সিলেট পাড়ার আব্দুল মোতালেব বলেন, জিঞ্জিরাম নদীর পূর্বপাড়ে হাট-বাজার নেই। সে কারণে প্রতিদিন তাদের সানন্দবাড়ী বাজারে যেতে হয়। নদীতে সেতু না থাকায় পারাপারে অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হচ্ছে। নদীটির সানন্দবাড়ী বাজার সংলগ্ন স্থানে সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি। 

নবিনাবাদের আনোয়ার হোসেন বলেন, জিঞ্জিরাম নদীর পূর্বপাড়ের গ্রামগুলোতে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। সেতু না থাকায় কোমলমতী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন খেয়া নৌকায় রশি টেনে নদী পারাপার হতে হচ্ছে। এতে অর্থ ও সময় ক্ষেপনের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত তারা পতিত হচ্ছে ঝুঁকির মুখে।

সানন্দবাড়ীর পশু চিকিৎসক ও গণমাধ্যম কর্মী হারুন অর রশিদ জানান, সানন্দবাড়ী বাজারের পূর্ব পাশ ঘেঁষে সানন্দবাড়ী-পাথরের চর সড়কে জিঞ্জিরাম নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ দিনের। কিন্তু বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও আজও ওই স্থানে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে না। ফলে নদীটির পূর্বপাড়ের শতশত মানুষকে রশি টেনে খেয়া নৌকা পারাপারে প্রতিদিন পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। এলাকাবাসীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নদীটির ওই স্থানে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি তার।

চরআমখাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম জানান, জিঞ্জিরাম নদীর পূর্বপাড়ের বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন সানন্দবাড়ী হাট-বাজারে যাতায়াত করতে হয়। সেতু না থাকায় তাদেরকে প্রতিনিয়ত পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। গ্রামগুলোতে একদিকে নেই হাট বাজার অন্যদিকে নেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এলাকাবাসীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে জিঞ্জিরাম নদীতে সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ জানান, নদীটির ওই স্থানে ১৫০ মিটার সেতুর প্রস্তাবনা সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে সেতু নির্মাণ করা হবে।

প্রতিনিধি/এইচই