ঢাকা মেইল ডেস্ক
১২ মার্চ ২০২৩, ০২:৪৪ পিএম
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই রাজবাড়ীতে চলছে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব! প্রকাশ্য দিবালোকে অবৈধভাবে জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে প্রভাবশালী মহল। জেলার প্রায় শতাধিক জায়গা থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে এভাবে মাটি কেটে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। এতে কমে আসছে ফসলি জমির পরিমাণ।
সরেজমিনে জেলার বরাট ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়- গম, সরিষা, কলাই, শাক-সবজিসহ নানাবিধ ফসলে ভরপুর জমির মাঝেই ভেকু মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে মাটি। যেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটায়।
শুধু এখানেই নয়, জেলার ৫টি উপজেলার চিত্রও একই। শতাধিক পয়েন্টে এভাবেই কেটে বিক্রি করা হচ্ছে ফসলি জমি। প্রতিদিন প্রতিটি পয়েন্টে গড়ে ৫০ ট্রাক মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এরমধ্যে এক ট্রাক মাটি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।
ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির এই মহোৎসবে ক্ষতির মুখে পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। সেই সঙ্গে কৃষকদের মেহনতী মনোভাবেও এর প্রভাব পড়ছে।
বরাট ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের কৃষক কামাল সেখ ঢাকা মেইলকে বলেন, ভবিষ্যতে তো আমাদের ফসলি জমির দরকার। মাটি কেটে কেটে খেলে, তো আর আমাদের কাজ হবে না। আমাদের ফসলের দরকার। ফসল হলে আমরা বাঁচতে পারি। এখানে একটি জমিতে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করার কারণে চারপাশের শত শত একর জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চারপাশের ভূমি নষ্ট করে ফেলছে ভূমি খেকোরা।
রহিম শেখ নামে আরেক চাষি বলেন, ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় আমাদের কৃষকদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। সময়মতো ফসল উৎপাদন করতে পারছি না। আমাদের জোর দাবি কেউ যেন ফসলি জমির মাটি না কাটে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা কাশেদ ব্যাপারীর অভিযোগ- আমাদের এলাকার পাকা সড়কে এখন ২৪ ঘণ্টাই চলছে মাটিবোঝাই ট্রাক ও ট্রাক্টর। পাকা সড়কে মাটি পড়তে পড়তে এখন সেগুলোও কাদা-মাটির সড়কে পরিণত হয়েছে। তারপর আবার ট্রাক চলার সময়ে ধুলাবালি উড়ে চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ধুলাবালিতে প্রচণ্ড দুর্ভোগে পড়েছেন।
তবে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যদিও গোয়ালন্দ উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুর রহমানের দাবি- অনুমতি ছাড়া কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন প্রতিরোধ এবং সড়কে জানমালের নিরাপত্তা ও সড়কের ক্ষতিরোধ নিশ্চিতে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা পারিষদের সামনে থেকে একটি ছাড়াও আগের দিন রাতে জামতলা পৌর এলাকা থেকে তিনটি মাটিবাহী ড্রামট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান জানান, রাজবাড়ী জেলা কৃষিভিত্তিক জেলা। এই জেলার অধিকাংশ জমি ৩ ফসলি জমি। পাশাপাশি রাজবাড়ী জেলা পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- ১ ইঞ্চি জমিও অনাবাদী রাখা যাবে না। এই উদ্যোগ আমরা রাজবাড়ীতে বাস্তবায়ন করছি। যেসব সরকারি ও বেসরকারি জমি অনাবাদী ছিল সেগুলো আমরা আবাদের আওতায় আনছি।
মাটি কাটা ও ফসলি জমি বিনষ্টের বিষয়ে তিনি বলেন, আবাদি ও তিন ফসলি জমির মাটি কেউ যেন ইটভাটাসহ কোথাও ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। প্রয়োজনে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দিচ্ছি। এছাড়া ব্যক্তিগত জমিতে যখন মাটি কাটা হয়, তখন আমরা দেখছি তারা অনুমতি সাপেক্ষে অন্যের কাছে মাটি দিচ্ছে কি-না। অনুমতি ছাড়া দিয়ে থাকলে এবং আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তিন ফসলি জমিতে কোনোভাবেই মাটি কাটা যাবে না।
প্রতিনিধি/আইএইচ