images

সারাদেশ

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: নিহতের পরিবার পাবে সোয়া ২ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ মার্চ ২০২৩, ১০:০৪ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে দুই লাখ টাকা এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এছাড়া আহতদের ওষুধসহ যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

শনিবার (৪ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় জেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুম খুলেছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসূল এলাকার সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই ঘটনায় ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরও অন্তত ৩০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

আহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১১ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মো. নূর হোসেন (৩০),  মো. আরাফাত (২২), মোতালেব (৫২), ফেনসি (৩০), মো. জসিম উদ্দিন (৪৫), নারায়ণ (৬০), মো. ফোরকান (৩৫), শাহরিয়ার (২৬) ও মো. জাহিদ হাসান (২৬), মো. আলমগি হোসেন (৩৪) ও মো. সেলিম (৩৬)।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সাইরেন বাজিয়ে একের পর এক আসছে অ্যাম্বুলেন্স। আহতদের বেশিরভাগের শরীরের বিভিন্ন অংশ উড়ে গেছে। আগে থেকে স্বজনদের কেউ কেউ এসে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের চিৎকারে ভারী হয়ে উঠেছে চমেক হাসপাতালের আশেপাশের এলাকা। 

আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান। তিনি বলেন, আমি নিজে জরুরি বিভাগে চলে আসছি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন। তারা আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে আমরা ওষুধ, সেলাইন, ইনজেকশন দিচ্ছি। 

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে খবর পেয়ে আগুন নেভাতে একে একে ছুটে যায় চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট। পরে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকেও যোগ দেয় আরও কয়েকটি ইউনিট। সবমিলিয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ২৫টি ইউনিট আগুন নেভাতে নিরলস পরিশ্রম করে।

কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক পদার্থের কারণে দফায় দফায় ওই সময় বিস্ফোরণে বাড়ে আগুনের ভয়াবহতা। আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রশাসন প্রথমে ৪৯ জন নিহতের তথ্য দিলেও পরে জানানো হয় এই সংখ্যাটা ৪১। তবে পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার ছাড়াও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজন মারা যান। এতে সেই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ জনে।

প্রতিনিধি/এইউ