জেলা প্রতিনিধি
১২ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৫৩ পিএম
সাতক্ষীরার দেবহাটায় শামসুজ্জামান (৫২) নামের এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রতিবন্ধী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক বছরে এ নিয়ে অন্তত ৫ বার ছাত্রকে বলাৎকারে অভিযোগ মিলল তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শামসুজ্জামান দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ কুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় এলাহী বকস্ দাখিল মাদরাসার ক্রীড়া শিক্ষক।
ভুক্তভোগীর বাবা অভিযোগ করেছেন, বিগত কয়েক মাস ধরে তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে (১২) একাধিকবার বলাৎকার করেছেন মাদরাসার ক্রীড়া শিক্ষক শামসুজ্জামান। মাদরাসা ভবনের দোতলায় একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে কখনও ভয়ভীতি দেখিয়ে আবার কখনও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষক তার ছেলেকে বলাৎকার করেন।
তিনি জানান, প্রায় প্রতিবারই বলাৎকারের পর শামসুজ্জামান তার ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার হাতে এক'শ থেকে তিন'শ টাকা পর্যন্ত ধরিয়ে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিতেন। সর্বশেষ সপ্তাহ খানেক আগেও ওই শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেন তিনি। পরে কিছুটা অস্বাভাবিকভাবে ছেলেকে বাড়ি ফিরতে দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে দফায় দফায় বলাৎকারের বিষয়টি পরিবারকে জানায় ওই শিক্ষার্থী।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত শিক্ষক ও জামায়াত নেতা শামসুজ্জামান।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে নিয়ে মাদরাসায় শালিসে বসে ম্যানেজিং কমিটি। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শামসুজ্জামানকে অজ্ঞাত স্থান থেকে আটক করে শালিসে হাজির করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। সেখানে ওই প্রতিবন্ধী ছাত্রের বক্তব্য নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে ছেড়ে দেন ম্যানেজিং কমিটির নেতারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইতোপূর্বে কয়েকবার একাধিক ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন শামসুজ্জামান নামের ওই শিক্ষক। বারবার বলাৎকারের ঘটনা প্রমাণিত হলেও সাময়িক বহিস্কার ছাড়া শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে স্থায়ী কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। বরং অভিযুক্ত শামসুজ্জামান একদিকে প্রভাবশালী জামায়াত নেতা এবং অপরদিকে ধর্নাঢ্য হওয়ায় প্রতিবারই বলাৎকারের পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটিকে ম্যানেজ করে ভুক্তভোগীদের পরিবারকে বিষয়টি মিমাংসায় বাধ্য করেন। এতে করে বরাবরই তিনি রয়ে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এলাকাবাসীরা আও অভিযোগ করেছেন, শুধু বলাৎকার নয়, ২০১৩-১৪ সালে এলাকায় সরকারবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডে অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন অভিযুক্ত জামায়াত নেতা শামসুজ্জামান। তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট স.ম গোলাম মোস্তফার বাড়িঘর ভাঙচুর ছাড়াও অগ্নিসংযোগসহ একাধিক নাশকতা মামলার আসামি হয়ে তিনি হাজতবাসও করেছেন একাধিকবার।
এদিকে, ছাত্রকে বলাৎকারের বিষয়ে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা রুহুল কুদ্দুস বলেন, এর আগেও কয়েকবার তিনি একই অপরাধ করেছেন। সে জন্য অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শালিসের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষক শামসুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আছাদুল হক বলেন, বারবার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বলাৎকারের মতো জঘন্য ঘটনার জন্য কেবলমাত্র সাময়িক বরখাস্ত উপযুক্ত কোনো শাস্তি হতে পারে না। ভিকটিমের পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলোক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে দেবহাটা থানার ওসি শেখ ওবায়দুল্যাহ বলেন, ছাত্র বলাৎকারের বিষয়টি জেনে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। ভিকটিমের পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/ এজে