Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

আত্রাই নদীতে পরিযায়ী পাখির জলকেলি

জেলা প্রতিনিধি

১২ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০২ পিএম

ঋতুচক্রের পালাবদলে এসেছে শীত। শীতের শুরুতেই এদেশের নদী-নালা, খাল-বিলে হাজার মাইল দূর থেকে উড়ে আসে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। হাজারো পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে জলাশয়গুলো। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি আত্রাই নদীতে।

শীতের হিমেল হাওয়ায় অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর এখন নওগাঁর মহাদেবপুরের আত্রাই নদী। ডানা মেলে আকাশে উড়াউড়ি আর নদীর স্বচ্ছ পানিতে জলকেলিতে চারদিক মাতিয়ে রাখছে অতিথি পাখির দল। বিশেষ করে রাঙা ময়ূরি আর বালিহাঁসের দিনভর খুনসুটিতে আত্রাই নদীর তীরে সৃষ্টি হয় এক নান্দনিক পরিবেশ।

গত কয়েক বছর ধরেই শীতের শুরুতে দল বেঁধে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখিগুলো। আবাস গড়ে তোলে আত্রাই নদীর তীরের পুরো কুঞ্জবন এলাকাজুড়ে। নদীর স্বচ্ছ পানিতে চোখ পড়লেই দেখা মিলবে হাজারো পরিযায়ী পাখির। চলতি শীত মৌসুমে বালিহাঁস, সরালি হাঁস, পানকৌড়ি, রাতচোরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির বিচরণ ঘটেছে আত্রাই নদীতে। এছাড়া পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজাহাঁস, বালিহাঁস, পাতিকুট, শামুকখোল, পানকৌড়ি, ছন্নি হাঁসসহ প্রায় ১২ জাতের দেশি পাখির দেখা মিলবে।

বর্তমানে পরিযায়ী পাখির কল-কাকলিতে ঘুম ভাঙে আবার রাতে পাখির কলতান শুনে ঘুমাতে যান আত্রাই নদীর দুইপারের কুঞ্জবনের মানুষ। তাদের আগমনে প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

bird

গত কয়েক বছর ধরেই শীতের শুরুতে দল বেঁধে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখিগুলো। আবাস গড়ে তোলে আত্রাই নদীর তীরের পুরো কুঞ্জবন এলাকাজুড়ে। নদীর স্বচ্ছ পানিতে চোখ পড়লেই দেখা মিলবে হাজারো পরিযায়ী পাখির। চলতি শীত মৌসুমে বালিহাঁস, সরালি হাঁস, পানকৌড়ি, রাতচোরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির বিচরণ ঘটেছে আত্রাই নদীতে। এছাড়া পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজাহাঁস, বালিহাঁস, পাতিকুট, শামুকখোল, পানকৌড়ি, ছন্নি হাঁসসহ প্রায় ১২ জাতের দেশি পাখির দেখা মিলবে।

মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য দেখতে দুর দূরান্ত থেকে আসছেন পাখিপ্রেমিরা। নিরাপদে পাখিগুলোর বসবাসের জন্য আবাস করে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন।

এসব পরিযায়ী পাখি প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর স্বচ্ছ পানিতে করে জলকেলি। কখনও জলে ভাসতে থাকে আবার কখনও দল বেঁধে ওড়ে নদীর চারপাশে। একসঙ্গে ওঠানামা করতে গিয়ে পা আর পাখার ঝাপটায় চারদিকে ছিটকে পড়া পানিতে সৃষ্টি হয় এক অপরূপ দৃশ্য। সারা দিন নদীতে থাকলেও রাতে পাখিগুলো ফিরে যায় পাশের রামচন্দ্রপুর, মধুবসহ এলাকার বিভিন্ন গাছে। ভোরে আবারও ফিরে আসে আত্রাই নদীতে।

bird

মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য দেখতে দুর দূরান্ত থেকে আসছেন পাখিপ্রেমিরা। নিরাপদে পাখিগুলোর বসবাসের জন্য আবাস করে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন।

পাখি দেখতে আসা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, শুধু পরিযায়ী পাখির নামই শুনেছি কিন্তু দেখা হয়নি। এখানে অতিথি পাখি আসছে শুনে দেখতে এসেছি। এখানে এসে মনটা ভরে গেল।

মাসুদ রানা জানান, আমি অতিথি পাখি দেখতে এখানে এসছি। খুব সুন্দর পরিবেশ ও মনোমুগ্ধকর এই জায়গা। অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ। কত সুন্দরভাবে উড়ে বেড়াচ্ছে। দেখলে যে কারো মন ভালো হয়ে যাবে।

bird

পরিযায়ী পাখি দেখতে আসা শিক্ষার্থী দুলাল হোসেন বলেন, এলাকাটিতে যদি পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা যায় সেক্ষেত্রে প্রতি বছর এখানে পরিযায়ী পাখি আসবে। এসব পাখিকে ঘিরে এলাকাটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। এখানে যাতে কোনক্রমেই ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি না হয়।

স্থানীয় বিচিত্র পাখি উৎপাদন গবেষণা পরিষদ নামের সামাজিক সংগঠনের পরিচালক মুনসুর সরকার বলেন, পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ অবাসনের জন্য নদীর পানিতে বেশ কিছু বাঁশ দিয়ে ঘের তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে পানিতে পড়ছে।  আবার কেউ বাঁশের ওপর বসে আরাম করছে।

bird

তিনি আরও বলেন, কেউ পাখি শিকার বা মাছ শিকার করতে গিয়ে পাখিদের বিরক্ত না করে সে জন্য আমরা কাজ করছি। মাঝে মাঝেই আমরা মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করে থাকি।

মহাদেবপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, আত্রাই নদীতে যেসব স্থান পাখিদের অবাধ বিচরণ আছে সেই সব স্থানে যাতে কেউ নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করার কারণে পাখিদের অবাধ বিচরণে বাধাগ্রস্ত না হয় এবং কেউ যেন পাখি শিকার করতে না পারে সে বিষয়ে মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে নজরদারি রয়েছে। এছাড়া কেউ যদি পাখি শিকার করে, আমরা জানতে পারলে বনবিভাগের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

টিবি