images

সারাদেশ

রাজবাড়ীর রেলপ্লাজায় কোটি টাকার পুরাতন কাপড় বিক্রি

জেলা প্রতিনিধি

১০ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:৫৩ পিএম

রাজবাড়ী জেলা শহরের ১নং রেলগেট এলাকায় রেল লাইনের উপরে বসেছে পুরাতন বিদেশি শীতের কাপড়ের দোকান। এই বাজারকে অনেকে রেলপ্লাজা বলে চেনেন। এসব দোকানে কোরিয়া, তাইওয়ান জাপানসহ বিভিন্ন দেশের পুরাতন পোশাক বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন এখানে ৪ লাখ টাকার বেশি কাপড় বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেলপ্লাজায় ৪২টি পুরাতন কাপড়ের দোকান বসেছে। এসব দোকানে ব্লেজার, জ্যাকেট, সোয়েটার, ট্রাউজার, মাফলার, টুপি, হুডি ও কম্বলসহ অনান্য শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা বিক্রেতাদের হাক ডাকে মুখরিত পুরো এলাকা। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বাহারি শীতের পোশাক। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো এসব দোকানে তাদের সাধ্যের মধ্যে শীতের কাপড় কিনছেন।

Rajbari

শহরের ১নং রেলগেট এলাকায় এই পুরাতন কাপড়ের বাজারে ছোট বড় মিলিয়ে ৪২টি দোকান বসেছে। প্রতি শীতের মৌসুমে অক্টোবর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই ৪ মাস চলে পুরাতন শীতের কাপড়ের বেচাকেনা।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুসারে, প্রতিটি দোকানে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। সেই হিসেবে ৪২টি দোকানে প্রতিদিন ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার বিক্রি হয়। তাহলে ৪ মাসে ১২০ দিনে ৪২টি দোকানে ৫ কোটি ৪ লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়।

এই রেলপ্লাজায় দীর্ঘ দিন ধরে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা করেন মো. লিটন শেখ। তিনি বলেন, রাজবাড়ী জেলার এই রেলগেটে প্রতি বছর শীতের মৌসুমে আমরা পুরাতন শীত পোশাকের ব্যবসা করি। এখানে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে আকার আকৃতি, রং ও মান ভেদে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত একেকটি শীত বস্ত্র বিক্রি হয়। প্রতিদিন কয়েক হাজার ক্রেতা এখানে পুরনো বিদেশি শীতের পোশাক কিনতে আসেন। এখানে কমদামী কাপড়গুলো ৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে, মাঝারি গুলো ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা আর কিছু দামি কাপড় ও কম্বল ১ হাজার বা তার বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।

Rajbari

ব্যবসায়ী সাদ্দাম শেখ বলেন, আমাদের এখানে কোরিয়া, তাইওয়ান, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের পুরাতন ব্লেজার, জ্যাকেট, সোয়েটার, ট্রাউজার, মাফলার, টুপি, হুডি, কম্বলসহ মহিলাদের নানা রকমের শীতের পোশাক বিক্রি করি। প্রতিদিন একেকটি দোকানে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। এতে প্রতিদিন আমাদের ২ হাজার টাকার মতো আয় হয়।

আরেক ব্যবসায়ী উজ্বল মোল্লা বলেন, প্রতি বছরে শীত মৌসুমে আমরা অক্টোবর মাস থেকে ব্যবসা শুরু করি। পরের বছর ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা। এইখানে বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি কেনাকাটা করে থাকে। তবে আমরা কম দামে শীতের কাপড় বিক্রি করি। দরিদ্র মানুষগুলো কম টাকায় শীতের কাপড় কিনতে পারে।

Rajbari

এখানে শীতের একটি জ্যাকেট কিনতে এসেছেন রিকশাচালক শফি মোল্লা (৪৫)। তিনি বলেন, শীতের সময়ে রিকশা চালাতে বেশি করে শীতের জামা কাপড়ের দরকার হয়। নতুন পোশাকের দোকানে একটি জ্যাকেট কিনতে গেলে হাজার টাকার বেশি প্রয়োজন। আর এখানে আমি মাত্র আড়াইশ টাকায় মোটা কাপড়ের জ্যাকেট কিনতে পেরেছি।

মুদি দোকানি সাফায়েত মোল্লা (৫০) তার ছেলের জন্য একটি ব্লেজার কিনতে এসেছেন রেলপ্লাজায়। তিনি বলেন, আমি আমার ছেলের জন্য ৪০০ টাকা দিয়ে এখান থেকে একটি ব্লেজার কিনেছি। এইসব দোকানে বিদেশ থেকে আসা ভালো মানের শীতবস্ত্র কেনা যায়।

জেলা সদরের দাদশী ইউনিয়নের শেফালী বেগম এসেছেন নিজের জন্য একটি সোয়েটার কিনতে। তিনি বলেন, একটি সোয়েটার কিনলাম মাত্র দেড়শ টাকা দিয়ে। আমাদের মতো গরীব মানুষ নতুন শীতবস্ত্র কিনতে পারে না। গরীবের মার্কেট এই রেলপ্লাজা।

Rajbari

রেলপ্লাজা মার্কেটের কাপড় সর্বরাহকারী মো. শাওন শেখ বলেন, আমি চলতি মৌসুমে এখানকার দোকানিদের কাছে চট্টগ্রাম থেকে এনে ৩০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের পুরাতন বিদেশি কাপড় বিক্রি করেছি। আমার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা নিজেরাও চট্রগ্রাম বা ঢাকার পাইকারদের কাছ থেকে সরাসরি পুরাতন কাপড়ের বেল্ট কিনে এনে ব্যবসা করেন। প্রতিদিন একজন ব্যবসায়ী কমপক্ষে ১০ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি করে । এতে ২ হাজার বা তার বেশি সে আয় করে। রাজবাড়ীর রেল মার্কেট অনেক জনপ্রিয়।