জেলা প্রতিনিধি
১০ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৩২ পিএম
ছিলেন ফুল বিক্রেতা। এখন গোলাপ ফুল বাগানের মালিক। ১৫ বছর ধরে ঢাকাতে ফুল বিক্রি করতেন। বাড়িতে ফিরে গিয়ে জমি লিজ নিয়ে শুরু করলেন গোলাপ চাষ। শুরুতেই সফল। মাসে ২ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করছেন। তিনি শেরপুরের মোহাম্মদ আলী।
প্রথমবারের মতো শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সন্ধ্যাকুড়া এলাকায় গারো পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ ফুলের চাষ শুরু করেন তিনি। বাগান শুরুর ছয় মাসের মাথায় প্রায় চার লাখ টাকার ফুলও বিক্রি করেছেন এ উদ্যোক্তা।

বর্তমানে তার আয়ের হিসেব আরও বেশি। পতিত জমিতে নানা রঙের গোলাপ বাগান করে স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। বাগান দেখতে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরাও। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে সব ধরণের সহযোগিতা।
সরেজমিনে ঝিনাইগাতী উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় সেচ সংকট ও হাতির বিচরণে অনেক জমি পতিত থাকত বছরের পর বছর। কিন্তু এবার পাল্টেছে সেই চিত্র। পতিত জায়গায় চাষ করা হয়েছে লেবুসহ অনেক কাঁটাযুক্ত ফুল বাগান। যেসব ফসল হাতির অপ্রিয়।

তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ভারতের চেন্নাই ও যশোর থেকে ৫ রঙের প্রায় ১৭ হাজার ফুলের চারা কিনে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করি। এসব গাছে ফুল দেওয়া শুরু হয় মাসখানেকের মধ্যেই। বাগান শুরুর ছয় মাসের মধ্যেই ঢাকার পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকার গোলাপ ফুল।
মোহাম্মদ আলী ঢাকা মেইলকে আরও বলেন, গত ১৫ বছর ধরে ঢাকার শাহবাগ, উত্তরা, ধানমন্ডি এবং গুলশানে নানা ধরণের ফুলের ব্যবসা করতাম। এক সময় চিন্তা করি নিজ গ্রামের বনাঞ্চলের পতিত জমিতে গোলাপ চাষ করব। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে কাজ শুরু করি জানুয়ারি মাসে। চুক্তি ভিত্তিতে বছরে সাড়ে তিন লাখ টাকায় আট বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে চাষ শুরু করেছি।

মোহাম্মদ আলীর গোলাপ বাগানের নাম জননী ফ্লাওয়ারস গার্ডেন। গোলাপ বাগান থেকে প্রতিমাসে প্রায় ২ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করছেন এ উদ্যোক্তা। গোলাপ বাগান করায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে আশপাশের মানুষের।
গোলাপ বাগানের শ্রমিক শামসুল হক বলেন, পাহাড়ি এলাকায় তেমন কোনো কাজকর্ম নেই। এখানে গোলাপ বাগান হওয়ায় আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
বাগানে ঘুরতে আসা তাশফিয়া রিফা বলেন, আমরা বান্ধবীরা মিলে সন্ধ্যাকুড়ার এই গোলাপ বাগানে এসেছি। এখানে সাদা, লাল, হলুদ ও পিংক কালারের গোলাপ রয়েছে। এগুলো আমার খুব ভালো লাগছে।

শেরপুর শহর থেকে আসা নুসরাত ইমি বলেন, ফেসবুকে ছবি দেখে বন্ধুর সাথে এসেছি বাগানে। এখানে এসে আমি আপ্লুত। চমৎকার সব ফুল ফুটেছে। অনেক ছবিও তুলেছি।
স্থানীয় কৃষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, সামনের মৌসুমে আমিও গোলাপ বাগান করার চিন্তা করছি। কারণ গোলাপে অন্যান্য ফসলের চেয়ে অনেক বেশি লাভ।
উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলীকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার ঢাকা মেইলকে বলেন, মোহাম্মদ আলীকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাকে প্রয়োজনীয় সকল জিনিষপত্রও দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার আরও বলেন, বর্তমানে মোহাম্মদ আলী মাসে দুই লাখ টাকার মতো ফুল বিক্রি করছেন।
জেলা কৃষি বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিবানী রাণী নাথ ঢাকা মেইলকে বলেন, গারো পাহাড়ের অই অঞ্চলের মাটি চেন্নাই জাতের বাহারি গোলাপ ফুল চাষের জন্য বেশ উপযোগী।
প্রতিনিধি/এসএস