images

সারাদেশ

রাজবাড়ীতে জনপ্রিয় হচ্ছে ক্যাপসিকাম চাষ

জেলা প্রতিনিধি

১৪ মার্চ ২০২২, ১২:৪৭ পিএম

রাজবাড়ীতে সুইট বিউটি ও ভারতীয় উন্নত জাতের ক্যাপসিকামের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর দামও ভালো পাওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। ক্যাপসিকাম চাষে লাভ দেখে নতুন করে অনেকে আবার ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হচ্ছে অন্যদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

ক্যাপসিকাম চাষীরা জানান, অন্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশি লাভ পাচ্ছেন ক্যাপসিকাম চাষ করে। তাই ভিনদেশি এই সবজি চাষে ঝুঁকে পড়ছেন চাষিরা। রাজবাড়ী জেলা থেকে উৎপাদিত ক্যাপসিকাম রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে সদরের মিজানপুর ও বসন্তুপুর ইউনিয়নে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ক্যাপসিকাম চাষ বেড়েছে অনেক বেশি।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাজবাড়ী জেলা সদরে এ বছর ১ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন চাষীরা। 

জানা গেছে, রোপনের ৫০ দিন পরে গাছে ফলন আসে ক্যাপসিকাম গাছে। একটি গাছ থেকে ৩ বার ফলন পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে ক্যাপসিকাম আবাদ করা হয় এবং মাঘ মাসের মাঝামাঝি ফসল তোলা হয়। প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

সরেজমিনে মিজানপুর ইউনিয়নের বেনিনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ক্যাপসিকামের ফলন ভালো হয়েছে। রোগ ও পোকার আক্রমণ ছাড়াই চলতি মৌসুমে সেখানে অন্য ফসলের চেয়ে উন্নত জাতের ক্যাপসিকামের ব্যাপক আবাদ হয়েছে।

Capsicum rajbariশহিদুল ইসলাম নামের এক চাষি বলেন, ৩ বছর ধরে ক্যাপসিকাম চাষাবাদ করছি। গত বছর ক্যাপসিকাম চাষ করে লাভবান হয়েছি। এ বছর ৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ ক্যাপসিকাম করেছি। আমার ক্ষেতে ১২ হাজার গাছ আছে। এ বছর ফলন হয়েছে প্রায় ৬ টন। বিঘা প্রতি ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিঘা প্রতি ফল বিক্রি করেছি দেড় লক্ষ টাকা।

তিনি বলেন, রাজবাড়ী জেলার কয়েকটি রেষ্টুরেন্টসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন চাইনিজ রেষ্টেুরেন্টে ক্যাপসিকাম সাপ্লাই করি। বাজারে প্রতি কেজি পাইকারী দরে ১১০ টাকা আর খুচরা পর্যায়ে ২০০ টাকা বিক্রি করি। আশা করছি এবার ১০ লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করতে পারবো।

চাষি জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত ২ বছর ধরে ক্যাপসিকাম আবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা কম হলেও ঢাকার বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। বড় বড় রেস্টুরেন্টে পিজ্জা, ফ্রাইড রাইস, স্যুপ, পাস্তা ও সবজিসহ বিভিন্ন খাবারে ক্যাপসিকাম ব্যবহৃত হয়। দেশি মরিচের চাষ করে তেমন লাভ করতে পারিনি। পরে ক্যাপসিকাম চাষ করে আশপাশের অনেকেই লাভবান হয়েছেন দেখে এই সবজি চাষ করছি।

শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের চাষী মোঃ রবিউল বলেন, বীজ সংগ্রহের পর চারা তৈরি করতে হয়। এক মাস পর সেই চারা রোপণ করতে হয়।ক্যাপসিক্যামের বীজের দামে ভিন্নতা রয়েছে। দেড় লাখ টাকা কেজি দরে বীজ বিক্রি হয়। এ বীজকে বলা হয় চায়না বীজ। এর চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য জাতের মরিচের মতোই। সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে ক্যাপসিকামের চাষ দিন দিন বাড়ছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন শেখ বলেন, পদ্মা নদী পাড়ের জেলা রাজবাড়ী। এ জেলার মাটিতে ফসল ও শাক সবজি চাষাবাদে বেশ উপযোগী। মাটি অত্যন্ত উর্বর তাই দুই-তিন বছর ধরে কৃষকরা ক্যাপসিকাম চাষ করে ভালো ফল পাচ্ছেন। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। দিন দিন আবাদ বাড়ছে।

তিনি জানান, সদর উপজেলায় ১ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে। ক্যাপসিকাম চাষে বেকারদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। চাষাবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করছি এবং কারিগরী সহযোগীতা প্রদান করছি।

এএ