images

সারাদেশ

বাইসাইকেলে চড়ে দেশভ্রমণ চবির চার শিক্ষার্থীর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

২৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:০১ পিএম

বাইসাইকেল চালিয়ে তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ভ্রমণ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চার শিক্ষার্থী। গতকাল শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় তাদের এ ভ্রমণ সম্পন্ন হয়। 

'নৈতিক উন্নয়নই হোক টেকসই উন্নয়নের হাতিয়ার'—স্লোগানকে সামনে রেখে তারা এ ভ্রমণ পরিচালনা করেন। ভ্রমণকারীরা হলেন চবির রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ শরীফ, মো. যায়েদ ও লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ ও থংপং ম্রো।

গত ১৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকাল ৭টায় তেতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে তারা যাত্রা শুরু করেন। এরপর ১ হাজার ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গতকাল শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় টেকনাফ জিরো পয়েন্টে এসে তাদের ভ্রমণ শেষ হয়।

cu

মাহমুদ শরীফ বলেন, আমাদের লক্ষ্য পূরণের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিল আমাদের তীব্র মানসিক শক্তি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নেয়ার এবং স্থানগুলো ঘুড়ে দেখার চেষ্টা করেছি। এর পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করেছি সাইক্লিংকে মানুষের মাঝে আরও সুন্দর উপায়ে তুলে ধরতে। তবে, বড় বড় সড়কে অনেক রিস্ক নিয়ে সাইকেল চালাতে হয়েছে। কেননা, সেই সড়কগুলোর পাশে তেমন কোনো বাই-সড়ক ছিল না। 

cu

থংপং ম্রো বলেন, সোনার বাংলার বিভিন্ন জায়গায় আমরা আমাদের প্রতিপাদ্য বিষয়কে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি এবং আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিস্ট গ্রুপকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় সাইকেলিংকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করতে পারলে (বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে) তা একইসাথে পরিবেশবান্ধব এবং দেশের অনেক জ্বালানি খরচ বাঁচানো সম্ভব হবে। 

cu

মো. যায়েদ বলেন, আমাদের সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা এই সোনার বাংলার পুরোটা কখনোই চোখ মেলে দেখা হয়নি। তাই, আমাদের এই সোনার বাংলা ঘুরে দেখার পণ থেকেই বেরিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের প্যাডেলচালিত দু-চাকার যান আমাদেরকে কখনও নিয়ে গেছে সবুজ ধানখেতের মধ্য দিয়ে, কখনও নিয়ে গেছে গ্রাম-বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে, আবার কখনও বা কংক্রিটের শহরের ওপর দিয়ে। এসব কিছু আমাদের দারুণ এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করেছে। 

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা, বন্ধু-বান্ধুব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা যোগাযোগ রেখেছে তারা আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলো। এছাড়া নানান পেশার মানুষের নানামুখী জীবনযাপন, বাংলার ঐতিহ্য-ইতিহাস, স্থানীয় খ্যাত-বিখ্যাত নানান খাবারের অপরূপ স্বাদ আমাদের দু’চাকার গতিকে করছে আরও স্বাচ্ছন্দ। সেই সঙ্গে আমাদের প্রতিপাদ্য বিষয় সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া ছিল আরেক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।

প্রতিনিধি/এইচই