Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

হাতির আক্রমণে অতিষ্ঠ সীমান্তের কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি

১১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:১৭ পিএম

বন্য হাতির আক্রমণে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরের শতাধিক আদিবাসী পরিবারের। এরইমধ্যে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন এক আদিবাসীসহ দুজন।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাতেও জেলার দুর্গাপুর উপজেলার পশ্চিম বিজয়পুর, আড়াপাড়া গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে পাহাড়ি বন্যহাতির দল।

এসময় অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে আক্রমণ করে। এতে ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় বাসিন্দারা। ঘরে সংরক্ষিত ধান চাল খেয়ে যায় বন্যহাতিরা।

গত এক সপ্তাহে অর্ধশত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত করার পর নষ্ট করেছে অসংখ্য জমির পাকা ধান ও সবজি ক্ষেত। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে আদিবাসীসহ স্থানীয়দের জনজীবন। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন অনেকেই। এমতাবস্থায় সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সহযোগিতার দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই দলবেঁধে এভাবেই নেত্রকোনার সীমান্ত ঘেষা কুল্লাগড়া ইউনিয়নের প্রেম বাজার, আড়াপাড়া, বিজয়পুরসহ বিভিন্ন গ্রামে নেমে আসছে বন্যহাতির পাল। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত করে নষ্ট করছে অসংখ্য জমির পাকা ধান ও সবজি ক্ষেত। গত কয়েক বছর ধরেই হাতিগুলো বর্ষা ও শীত মৌসুমে ভারতীয় সীমান্ত পার হয়ে প্রবেশ করে বাংলাদেশে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, হাতির আক্রমণে গত ছয় মাসে নিহত হয়েছেন অন্তত ২ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য পরিবার। এমতাবস্থায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও জনসচেতনতায় ভূমিকা রাখবে প্রশাসন। সেইসাথে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে অবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। এমনটাই প্রত্যাশা করেন সবাই।

স্থানীয় আদিবাসী মজ্জা রিচিল ও উর্মি রিচিল জানান, হাতিদের তাড়ানোর চেষ্টা করলে উল্টো আক্রমণের শিকার হতে হয়। এরইমধ্যে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন এক আদিবাসী। বসত ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাসে বাধ্য হচ্ছে অনেকেই। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্য হাতির এমন তান্ডবে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় কয়েক শতাধিক আদিবাসী সহ বাঙালি পরিবারের।

ক্ষতিগ্রস্ত আড়াপাড়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম জানান, রাতে হঠাৎ বন্যহাতির একটি দল আমার বাড়িতে প্রবেশ করে। হাতিগুলো আমার বসত ঘরের খুঁটি, বেড়া, ভেঙে তছনছ করে ফেলে। বসতঘরে থাকা হাঁড়ি-পাতিল, জামা-কাপড়সহ যাবতীয় আসবাবপত্র পিষে নষ্ট করে। তখন জীবন বাঁচাতে তিন সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যাই। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে হাতির দল। শুধু তাই নয় ঘরে রাখা চাল ও ধান নষ্ট করেছে ক্ষুধার্ত হাতির দলটি। বর্তমানে আমাদের মাথা গোঁজার জায়গাটুকু নেই।

কুল্লাগড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ইউপি সদস্য আব্দুল হামেদ বলেন, হাতিগুলো বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। রাত হলেই হামলা করছে লোকালয়ে। এতে স্থানীয়া রয়েছেন আতঙ্কে। বন্যহাতির দল লোকালয়ে প্রবেশ করে ধান, সবজি, গাছপালাসহ মানুষের ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান বলেন, ভারতীয় বন্য হাতির দল লোকালয়ে প্রবেশ করে আড়াপাড়া ও পশ্চিম বিজয়পুর, ভবানীপুরসহ কয়েকটি গ্রামের ফসল, বাড়ি-ঘর ভাঙচুরসহ ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের ভেঙে যাওয়া ঘর মেরামতের জন্য দুই হাজার টাকা ও শীতবস্ত্র দিয়েছি। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি  ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।

তিনি বলেন, খাবার না পাওয়ায় বন্যহাতিগুলো লোকালয়ে আসে। তাই বন বিভাগকে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস