Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

‘সিত্রাং আমাদের মনে কষ্ট দিয়ে গেছে’

জেলা প্রতিনিধি

২৭ অক্টোবর ২০২২, ১২:০৩ এএম

‘নদীর পাড়ে থাকি, নদী আমাদের সঙ্গী। বেঁচে থাকা পর্যন্ত, নদীর সঙ্গে লড়ে যাচ্ছি। ঘুর্ণিঝড় (সিত্রাং) গতরাত আমাদের জাগিয়ে রাগছে। ঘুম যাওয়ার সুযোগ পায়নি একটুখানি। আকাশের বিকট শব্দ, প্রবল বাতাস আর নদীর স্রোত আমাদের দিশাহারা করে রাখছে।’

আক্ষেপের সুরে বলছিলেন খুরশিদা বেগম নামে এক নারী।

খুরশিদা লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকা নবীগঞ্জের রাস্তার পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন। তার ঘরটি রাস্তার পাশে, ঘরের দরজা খুললে নদী। চতুর্দিকে খোলা আকাশ।

খুরশিদা বেগম ঢাকা মেইলকে বলেন, গতরাতে নদীর গর্জন আর স্রোত ছিলো ভয়াবহ। রাত ১ টার দিকে যখন জোয়ার আসে, তখন হুটহাট করে ঘরে ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। চৌকির ওপর চৌকি দিয়ে, ঘরের মালামাল রেখে, ঘরের বাহিরে অপেক্ষায় ছিলাম। কখন পানি কমবে, কখন ঘরে গিয়ে থাকব। এভাবে সারারাত চলে গেছে, যখন ফজরের আজান দেয়, তখন পানি নামতে শুরু করে। ঘরে গিয়ে দেখি অনেক মালামাল ভেসে গেছে। ঝড়ে আমরা মারা যাইনি, কিন্তু ঝড় আমাদের মেরে গেছে।

খুরশিদা বলেন, ঝড়তুফান, বাতাস, নদীর স্রোত এগুলোর সঙ্গে সংগ্রাম করে আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই। গত কয়েকবার আপনাদের বাড়িঘর নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। আমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষের শেষ ঠিকানা কবরটুকুও আজ নদীর গর্ভে। আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নেই, আমরা চিই একটি টেকসই বেড়িবাঁধ।

প্রতিনিধি/এজেড