জেলা প্রতিনিধি
০৩ মার্চ ২০২২, ১০:৫২ এএম
১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কুল চাষ করেছেন ভাগ্য ফিরেছে লালপুরের দুই বন্ধুর। এর ফলে বছরে তাদের লাভ হয়েছে ৪ লাখ টাকা। এতে তাদের সংসারে ফিরেছে সুদিন। তাদের সাফল্যে এলাকার অনেক বেকার যুবক এখন কুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
বলছিলাম নাটোরের লালপুরে বিদেশি কুল চাষ করা দুই বন্ধু শহিদুল ও সাইফুলের কথা। এক সময় তারা ফেরি করে চুড়িমালা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। সারাদিন চুড়িমালা ফেরি করে বিক্রি করে যা আয় হতো তা দিয়ে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে যেত। এরপর পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে যান দেশের বাইরে। সেখানে দুই বন্ধু শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ৫ বছর বিদেশে কাজ শেষ করে দেশে ফিরে আসেন।
এরপর ২০২১ সালে নাটোরের লালপুর উপজেলার করিমপুরে ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন কুলের বাগান। রোপণের এক বছরের মাথায় প্রতিটি গাছে ফুল আসে। ধরে পর্যাপ্ত ফল। এ পর্যন্ত তারা বাগান থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার কুল বাজারে বিক্রি করেছেন। এ মৌসুমে আরও ৩-৪ লাখ টাকার কুল বিক্রি করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা। কুল চাষ করে দুই বন্ধুর সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বাগান থেকে বছরে ৪-৫ লাখ টাকা আয় করবেন বলে আশা করছেন এই দুই চাষি।

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে বাগানে দেখা যায়, দুই বন্ধু কুল সংগ্রহ করতে ব্যস্ত। সঙ্গে রয়েছে কয়েক শ্রমিকও। বর্তমানে তাদের বাগানে প্রতিদিন ৫/৬ জন শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিটি গাছের ডালে ডালে ঝুলছে বল সুন্দরী ও থাই জাতের কুল। কোনো কোনো গাছ কুলের ভারে ডাল হেলে পড়েছে, আবার বাঁশের সাহায্যে ডাল বেঁধে রাখা হয়েছে। বাগানের এসব কুল খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে বেশ চাহিদাও রয়েছে। তাদের এ সাফল্যে এরই মধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এলাকার অনেক যুবক কুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
২০২১ সালে নাটোরের লালপুর উপজেলার করিমপুরে ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন কুলের বাগান। রোপণের এক বছরের মাথায় প্রতিটি গাছে ফুল আসে। ধরে পর্যাপ্ত ফল। এ পর্যন্ত তারা বাগান থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার কুল বাজারে বিক্রি করেছেন। এ মৌসুমে আরও ৩-৪ লাখ টাকার কুল বিক্রি করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা। কুল চাষ করে দুই বন্ধুর সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বাগান থেকে বছরে ৪-৫ লাখ টাকা আয় করবেন বলে আশা করছেন এই দুই চাষি। বাগানে কাজ করা শ্রমিক রতন আলী বলেন, ‘প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা বেতনে এখানে কাজ করি। এই ফলের বাগানে কাজ করে আমার সংসার বেশ ভালোভাবেই চলে। সন্তানদের লেখাপড়া শেখাচ্ছি। আমারও ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে এমন সুন্দর বাগান গড়ে তোলার।’
কুল চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভাব অনটনের সংসারে ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলাম। সেখানে শ্রমিক হিসেবে ৫ বছর কাজ করেছি। দেশে ফিরে বাগান করবো এমন চিন্তা নিয়ে দেশে ফিরে আসি। এরপর অন্যের ১০ বিঘা জমি দুই বন্ধু লিজ নেই। ওই জমিতে বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি জাতের ১৪শ কুলের চারা রোপণ করি। এ বছর সব খরচ বাদে ৪-৫ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি।’

কুল চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এক সময় পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কেটেছে। এখন কুলের বাগান করে বেশ ভাল আছি পরিবার নিয়ে। পাইকারি কুল ব্যবসায়ীরা বাগান থেকেই কুল সংগ্রহ করে ওজন দিয়ে নিয়ে যায়।’
উপজেলা কৃষি অফিসার মো.রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এই দুই কুল চাষিকে সব সময় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাগানে কোনো পোকা ও রোগ দেখা দিলেই তারা কৃষি অফিসকে জানান। সেই অনুয়ায়ী তাদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের বাগানে বেশ ভালো ফলন এসেছে। ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন এই চাষিরা। তাদের মতো কুল চাষ করে এলাকার বেকাররা লাভবান হতে পারবেন। কৃষি অফিস সব সময় কৃষকদের সঙ্গে থাকবে।
টিবি