জেলা প্রতিনিধি
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
টানা কয়েক দিন শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সরকারি ছুটির পর খোলা হয়েছে বেশির ভাগ তৈরি পোশাক কারখানা। কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন কারখানা শ্রমিকরা। তবে দুটি এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বেশিরভাগ কারখানা খুলে দিয়েছেন মানিকপক্ষ। এসব কারখানায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। সহিংস আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন।
তবে দুপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার এপেক্স ফুটওয়্যারের শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করেন। পরে কারখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে বাসায় ফিরে যান।
এছাড়া দুপুরের খাবারের বিরতির পর কোনাবাড়ী থানার নয়াপাড়া এলাকায় মণ্ডল গ্রুপের মুনটেক্স ফেব্রিকস লিমিটেডের শ্রমিকেরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে ওই কারখানার শ্রমিকেরা আশপাশের কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় বিক্ষোভের পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশের সাতটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে- মণ্ডল গ্রুপের মুনটেক্স ফেব্রিকস লিমিটেড, কাইজার নিটওয়্যার, তাসনিয়া ফেব্রিকস, মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড ও ইসলাম নিটওয়্যার লিমিটেড। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শিল্প পুলিশ, থানা-পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। তারা শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে যোগ দেওয়া অথবা বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে শ্রমিকেরা সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
কাজে যোগ দেওয়া কয়েকজন শ্রমিক জানান, প্রকৃত শ্রমিকরা কারখানা ভাঙচুর বা নষ্ট হোক তা চায় না। সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আলাপ-আলোচনা চলছে, আমরা মনে করি আলোচনার মাধ্যমে আমাদের দাবি সরকার বিবেচনা করবে এবং দ্রুত সময় তা বাস্তবায়ন করবে। আমরা ভাঙচুর ও সম্পদ নষ্টের পক্ষে নই।
গাজীপুরের স্টাইলিশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে কারখানার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন সময় মতো বিদেশি বায়ারদের অর্ডার দিতে পারব কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তারপরও সরকার শ্রমিকদের জন্য যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, তা শ্রমিক-মালিকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাধান হবে বলে আশা করছি। ভাঙচুর আন্দোলন দিয়ে দাবি আদায় হয় না, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে। আমি আশা করব, শ্রমিকরা আর ভাঙচুর ও সহিংস আন্দোলন করবেন না। কারণ কারখানা বাঁচলে শ্রমিক ও মালিক বাঁচবে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। বেশির ভাগ কারখানা খুলে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এতে দলে দলে কর্মস্থলে ফিরেন শ্রমিকরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল কাজ করছে।
প্রতিনিধি/এলএ