জেলা প্রতিনিধি
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং বনরক্ষীদের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনায় দুই অভিযুক্তসহ বিষ সরবরাহকারী সেলিম মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার তিনজন হলেন- সোহেল শেখ, লাইজু বেগম ও মো. সেলিম মিয়া। অভিযুক্ত সোহেল শেখ ও লায়জু বেগম স্বামী-স্ত্রী। গ্রেফতার দম্পতিকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বিষ সরবরাহকারী হিসেবে সেলিম মিয়ার নাম বেরিয়ে আসে। পরে তাকেও গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে মোংলা থানা পুলিশ সেলিম মিয়াকে গ্রেফতার করে।
মংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর সুন্দরবনের দাকোপ এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার সময় বনরক্ষীরা বাধা দেন। এ সময় বিষ প্রয়োগকারীরা ধারালো দা নিয়ে বনরক্ষীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে খুলনার দাকোপ থানায় অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সোহেল শেখ ও লাইজু বেগমকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিষ সরবরাহকারী হিসেবে সেলিম মিয়ার নাম জানান তারা। তাদের দেওয়া তথ্যে মোংলা পৌর শহরের শেখ আবদুল হাই সড়কে অবস্থিত নিজস্ব সার ও কীটনাশকের দোকান থেকে সেলিম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের খুলনা জেলার দাকোপ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত থাকবে, তারা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধ করতে শুধু মাছ শিকারিদের নয়, এর পেছনে থাকা বিষের সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
প্রতিনিধি/এলএ