জেলা প্রতিনিধি
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১০ এএম
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন বলেছেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ইতিহাস বিকৃত করেছে। এখন নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের ওমর ফারুক মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মকে শুধু মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই হবে না। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি দেশ, একটি ভূখণ্ড পেয়েছি, একটি জাতি গঠিত হয়েছে। কিন্তু জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পেয়েছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে। একসময় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। এ জন্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। বিশেষ করে আমরা যারা বিএনপি করি, তাদের তৃণমূল পর্যায়ে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে। ৭ নভেম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। যেভাবে আমরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলি, একইভাবে ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়েও কথা বলতে হবে। ৭ নভেম্বর না হলে বাংলাদেশের অবস্থা আজ কী হতো, তা চিন্তার বাইরে।
আহমেদ সোহেল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার ১৯ দফার মাধ্যমে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন নিরলসভাবে পরিশ্রম করছেন। তার সঙ্গে আমরাও দেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, মানবিক, সাম্য ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। যেখানে দেশের প্রত্যেক নাগরিক সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহীন রেজা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নব গোপাল সাহা।
আলোচনা সভায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রতিনিধি/এমআর