জেলা প্রতিনিধি
০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
পুরনোদের রাজনীতির দিন শেষ উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে নীতি-নির্ধারণী ও নেতৃত্বের জায়গায় আসতে হবে, যা আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপসহ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার বিকালে নোবিপ্রোবি অডিটোরিয়ামে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্র শক্তির উদ্যোগে আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা, আবাসন সংকট, পরিবহন সংকট ও ক্লাসরুম সংকট বিরাজ করছে। রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া, কিন্তু তা রক্ষায় তারা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু বেকার গ্রাজুয়েট তৈরি করছে। প্রথম বর্ষে এই দুশ্চিন্তা না থাকলেও তৃতীয়-চতুর্থ বর্ষে উঠলেই শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়। বিগত আমলে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো দলীয়করণ এবং র্যাগিং, গেস্টরুম ও গণরুমের মতো শিক্ষার্থী-বিরোধী প্রথা টিকিয়ে রেখেছিল।
ছাত্রসংগঠনগুলোর দায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা বর্তমান শিক্ষার্থীদের স্বাধীন ও সুন্দর একাডেমিক পরিবেশ বিগত দিনের সিনিয়রদের লড়াই-সংগ্রামের ফসল উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করা এবং কোনোভাবেই যেন তা দলীয়করণ বা অগণতান্ত্রিক না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছাত্রসংগঠনগুলোর। ছাত্রসংগঠনগুলোকে কেবল নবীনদের গোলাপ ফুল উপহার দেওয়ার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আবাসন ও পরিবহন সংকট নিরসনে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে।
ঐতিহাসিক আন্দোলন ও জুলাই বিপ্লব জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এদেশের জনগণ ও ছাত্রসমাজ যখনই স্বৈরাচারের কবলে পড়েছে, তখনই রুখে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব তার জ্বলন্ত প্রমাণ। নোয়াখালীর ২৬ জন শহীদ ও শত শত আহত যোদ্ধার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতায় আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব রয়েছে। শহীদ ওসমান হাদিসহ সকল শহীদের রক্তের বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
‘ইউনিভার্সিটি’ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো গণ্ডিভুক্ত বা জাতীয় বিষয় নয়; এর সাথে বিশ্ব শব্দটা যুক্ত। শিক্ষার্থীদের শুধু স্থানীয় বা বিভাগীয় দাবি নিয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে এবং বিশ্ববাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম আগামী দিনের লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ডাক দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা সবসময় প্রস্তুত রয়েছে এবং ইনকিলাবের জয়গান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন- এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ উদ্দিন সিফাত, জাতীয় ছাত্রশক্তি সভাপতি আবু বাকের মজুমদার প্রমুখ।
প্রতিনিধি/এলএ