জেলা প্রতিনিধি
০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম ঈশানবালা চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চরাঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বিডা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঈশানবালা চর পরিদর্শন করে। এ সময় চরটির ভৌগোলিক অবস্থান, জমির প্রাপ্যতা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের উপযোগিতা সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হয়।
মেঘনা নদীবেষ্টিত হাইমচর উপজেলার দুর্গম এই চর দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও শিল্পায়নের অভাবে উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সীমিত হওয়ায় এখানকার মানুষের একটি বড় অংশ জীবিকার প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে ছুটে যেতে বাধ্য হন। এমন বাস্তবতায় ঈশানবালায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পরিদর্শনকালে বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ঈশানবালা চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই করতে আমরা সরেজমিনে এসেছি। এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান, জমির প্রাপ্যতা, যোগাযোগব্যবস্থা ও শিল্পকারখানা স্থাপনের উপযোগিতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, হাইমচরের ঈশানবালা চর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য সম্ভাবনাময় একটি এলাকা। এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে চাঁদপুরসহ আশপাশের অঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে। আমরা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে শিল্পায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনির হোসেন বলেন, এখানে শিল্পায়ন গড়ে উঠলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা এই এলাকার মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আমরা চাই, এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিক।
পরিদর্শনকালে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এলএ