জেলা প্রতিনিধি
০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। অন্ধকার দূর করে আলোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এই আয়োজনে মাটির প্রদীপের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি ও রঙিন এলইডি আলোর ঝলকানিতে মাটির প্রদীপের ব্যবহার কিছুটা কমে এলেও দীপাবলিকে ঘিরে আবারও ফিরেছে এর কদর।
দিনাজপুরের রেলবাজার ও বোচাগঞ্জের পাতিলহাটিতে মাটির প্রদীপের কেনাবেচাকে ঘিরে বেড়েছে ব্যস্ততা। ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির এসব প্রদীপ বিক্রি হচ্ছে এক টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
দোকান ও বাজারে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের মাটির প্রদীপ। ছোট ছোট এসব প্রদীপ কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। কেউ কিনছেন ঘরের বারান্দা সাজাতে, কেউবা মন্দির ও পূজামণ্ডপে আলো জ্বালানোর জন্য। মাটির প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোয় দীপাবলির ঐতিহ্য ধরে রাখতেই অনেকের এই আগ্রহ।
একসময় গ্রামবাংলার উৎসব-অনুষ্ঠানে মাটির প্রদীপের ব্যবহার ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ির উঠান, বারান্দা ও মন্দিরে সারিসারি প্রদীপ জ্বালানো হতো। সময়ের সঙ্গে বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জার প্রচলন বাড়লেও মাটির প্রদীপের ঐতিহ্য হারিয়ে যায়নি। বরং বিশেষ বিশেষ উৎসবে এর প্রয়োজনীয়তা আবারও অনুভব করছেন মানুষ।

মৃৎশিল্পীদের কাছে দীপাবলি বাড়তি আয়ের একটি উপলক্ষ। এ সময় প্রদীপের চাহিদা বাড়ায় তাদের তৈরি মাটির সামগ্রীও বাজারে গুরুত্ব পায়। তাদের হাতের তৈরি প্রতিটি প্রদীপে মিশে থাকে শ্রম, দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
রেলবাজারে প্রদীপ কিনতে আসা তরুণ কান্ত বলেন, দীপাবলিতে মাটির প্রদীপ জ্বালানোর মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ ও ঐতিহ্য রয়েছে। বৈদ্যুতিক বাতি থাকলেও মাটির প্রদীপের আলো অন্য রকম। তাই প্রতিবছরই পরিবারের জন্য প্রদীপ কিনি।
বোচাগঞ্জের পাতিলহাটিতে প্রদীপ কিনতে আসা সাবিত্রী রানী বলেন, মন্দিরের পাশাপাশি বাড়ির উঠান ও বারান্দায় প্রদীপ জ্বালাব। মাটির প্রদীপের আলোতে উৎসবের আনন্দই আলাদা। এ কারণে প্রতিবছরই প্রদীপ কিনি।

প্রদীপ বিক্রেতা সুনীল রায় বলেন, সারা বছর মাটির জিনিসের বিক্রি সমান থাকে না। তবে দীপাবলির সময় প্রদীপের চাহিদা বেশি থাকে। গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে। আশা করছি, উৎসবের দিন পর্যন্ত বেচাকেনা আরও বাড়বে।
আরেক প্রদীপ বিক্রেতা সাধন রায় বলেন, দীপাবলি উপলক্ষে এবার মাটির প্রদীপের ভালো বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কেনাবেচা বেড়েছে। বড় প্রদীপের তুলনায় ছোট প্রদীপের চাহিদা বেশি। কেউ একসঙ্গে ১০০টি ছোট প্রদীপ কিনলে ৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১ টাকা করে। গত বছর প্রায় ২০ হাজার প্রদীপ বিক্রি করেছিলেন। এবার ২৫ থেকে ৩০ হাজার প্রদীপ বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
প্রতিনিধি/এলএ