Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নোটিশেও থামানো যাচ্ছেনা অবৈধ ইটভাটা, চাঁদপুরে চালুর জন্য প্রস্তুত ৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

চাঁদপুরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও নোটিশ উপেক্ষা করে মৌসুম শুরুর আগেই অবৈধ ইটভাটা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন মালিকরা। জেলার ৮ উপজেলায় নিবন্ধন নবায়ন না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত ৪৮টি ইটভাটার মধ্যে অনেকগুলোতে ইতোমধ্যে ইট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানি কাঠও মজুত করা হয়েছে। এখন শুধু চুল্লিতে আগুন দেওয়ার অপেক্ষা। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশদূষণ ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর।

সরেজমিনে চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও মতলব উপজেলার বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটায় মৌসুম শুরুর প্রস্তুতির চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ইট তৈরির কাজ চলছে, আবার কোথাও ভাটা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জ্বালানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাটা পরিচালনা না করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মালিকরা।

পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর জেলার আট উপজেলায় মোট ইটভাটা রয়েছে ৯৪টি। এর মধ্যে নিবন্ধন নবায়ন না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে ৪৮টি অবৈধ এবং ৪৬টি বৈধ। উপজেলাভিত্তিক অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা হলো- ফরিদগঞ্জে ১৪টি, শাহরাস্তিতে আটটি, মতলব উত্তরে সাতটি, হাজীগঞ্জে ছয়টি, চাঁদপুর সদরে পাঁচটি, মতলব দক্ষিণে চারটি, কচুয়ায় তিনটি এবং হাইমচরে একটি।

665

এর মধ্যে ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটার আশপাশে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি রয়েছে। এসব ভাটায় ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে ভাটা চালু হলে ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের কারণে আশপাশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সরেজমিনে কয়েকটি ভাটায় প্রথমবার আগুন জ্বালানোর প্রস্তুতি হিসেবে গাছের গুঁড়ি মজুত করতেও দেখা গেছে।

এদিকে, ২০২৫ সালে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর যৌথভাবে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কয়েকটি ভাটায় জরিমানা ও স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই অনেক ভাটায় আবার উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি অবৈধ ইটভাটাগুলো।

পরিবেশ অধিদফতর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলায় ৪৮টি অবৈধ ও ৪৬টি বৈধ ইটভাটা রয়েছে। অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মালিকদের নিয়ে একাধিকবার সভা করা হয়েছে। সভায় অবৈধভাবে ভাটা পরিচালনা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলার চারটি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে যৌথ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

33

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, জেলার ৪৮টি অবৈধ ইটভাটার মালিককে কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ অবৈধভাবে ভাটা পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও কয়েকটি ইটভাটা ভেঙে দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

অভিযানের পরও কীভাবে আবার অবৈধ ইটভাটাগুলো চালু হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ইটভাটা পরিচালনার বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন প্রয়োগ করেন। আইনে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

প্রতিনিধি/এসআই