জেলা প্রতিনিধি
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও বিস্ফোরক আইনে অভিযোগ করা মামলার বাদী উপজেলা মৎস্যজীবী দল আহ্বায়ক ও আসামির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে এস এম মামুন নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে এ অডিওটি ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়া এ অডিও নিয়ে জেলাজুড়ে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া মৎস্যজীবী দল আহ্বায়ক নাম মো. মানিক মৃধা। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলাতলা গ্রামের মৃত আশ্রাব আলী মৃধার ছেলে।
অপরদিকে মামলার ১৯ নম্বর আসামি মো. সুমন আল মামুন উপজেলার বানিয়ারী গ্রামের রিয়াদুল ইসলামের পুত্র।
অডিওতে শোনা গেছে, মামলার ১৯ নম্বর আসামি মো. সুমন আল মামুন ওরফে সুমন ফকিরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে তার নিকট নগদ টাকা দাবি করেছেন।
ভাইরাল অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, সুমন ফকির প্রথমে ফোন করেন কুশলাদি বিনিময় করে বলেন, ‘ভাই আপনি যখন মোটরসাইকেল চাইছিলেন, তখন আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না, গাড়ি একটা দেখছি সত্তর থেকে পঁচাত্তর হাজার টাকার মধ্যে এখন কালকে পাঠাইয়া দিব না ক্যাশ দিয়ে পাঠিয়ে দেব’।
অপরদিকে মানিক মৃধা, বলেন- ‘তোমার নাম যে ওই জায়গায়স আছে তা আমি জানলে তোমার নাম ঢুকতেও দিতাম না। তুমি এতে কি দিলা আর কি না দিলা সেটা বড় কথা না। ওদের উদ্দেশ হইছে তোমারে এদিকে আনা এই যুক্তি আডাইছে ওরা এই মামলার বাদী হইলাম আমি। এটা আমি জানলে তুমি কি মনে কর জীবনে আমি সই করি আমার লগে ওসি সাহেবের অলরেডি কথা হয়েছে। আমারে ওসি সাহেব বলছে- এটা যে কোনো কায়দায় এটি ম্যানেজ করিয়া দেবে। আমারে সে আশ্বস্ত করেছে। আমি তারে কইছি এ তো দেশেই থাকে না ফাওফাও দাপরাইয়া লাভ কি? ওর চাইতে কয়টা টাহা লইয়া ভাগেন। কারণ আপনে জীবনে কোনোদিন ধরতেও পারবেন না। হে থাকে ময়মনসিং ও না না টাঙ্গাইলে। এসব বাদ দিয়া কয়টা টাহা আনি কয় ভাই ঠিক আছে এটা একটা সিস্টেম কোরবানি। আমি কথা দিলাম তো এ মামলা আপনার নামটা থাকবে না’।
প্রতি উত্তরে সুমান ফকির বলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে ভাই এখন কি গাড়ি নিবেন পালসার দিব না প্লাইটিনা দিব’?
জবাবে মানিক মৃধা বলেন, ‘গাড়ি আছে কোন জায়গায় এটা দেখছেন’?
সুমন ফকির বলেন, ‘গাড়ি আছে ঘোনাপাড়া শোরুমে। দেখছি, ১ লাখ ২০ হাজার দাম, আপনি তো আগে চাইছিলেন তার দাম ষাট থেকে পয়ষট্টি হাজার টাকা, ওই গাড়ি চালানের দরকার নাই আপনার এখন পালসার দিব নাকি টাকা দিব’।
প্রতিউত্তরে মানিক বলেন, ‘গাড়ি না- টাকা দিলে ভালো হয়। এদিক একখান দেখছি পঁচানব্বই হাজার টাকা দাম চাইছে পালসার, নজরুল খান (জেলা বিএনপির আহ্বায়ক) যে গাড়িডায় চলে হেইডা। তোমারে কথা দিলাম মামলায় তোমার নাম থাকবে না’।
গত ৩০ অক্টোবর রাতে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪৫ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাত আসামি করে নাজিরপুর থানায় মানিক মৃধা বাদী হয়ে একটি বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। ঘটনার বিবরণ পড়ে দেখা যায়, উপজেলার ৪ নং দীর্ঘা ইউনিয়নের দীর্ঘা ব্রিজের উপর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের লোকজন সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল ও দেশবিরোধী স্লোগান দেয়। এ ছাড়া সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার সরকারের কাজে বাধা, সরকার পতন, বাংলাদেশের অখণ্ডতা, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ত বিপন্ন করতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে।
আসামি মো. সুমন আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার বাদী মানিক মৃধার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এগুলা ষড়যন্ত্র। আপনি বানিয়ারী বাজারে গেলে সব বুঝতে পারবেন, আমি তার কাছে গাড়ি চাই নাই, সে এডভান্স হয়ে আমাকে গাড়ি দিতে চাইছে। তখন আমি বলছি, গাড়ি লাগবে না আমারে টাকা দেন। তবে ওসি সাহেব আমাকে কোনো টাকা পয়সার কথা বলে নাই যে, টাকা আনেন মামলা থেকে বাদ দিব।
নাজিরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আবু হাসান খান বলেন, এরা দুজনই খারাপ- বাদী এবং আসামি সুমন ফকির। সে প্রলোভন দেখাইছে আর বাদী লোভে পড়ছে দুজনই খারাপ লোক।
নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার পরে আমার সঙ্গে বাদীর কোনো কথা হয় নাই। মামলার পরে বাদী কার সঙ্গে কথা বলবে- সেটা তো আমাকে জিজ্ঞেস করলেও বলবে না। ভিডিওটি আমি দেখছি।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমার মনে হয় ওসি সাহেব মামলাটা ইনকোয়ারি না করেই রেকর্ড করছে। ৩০ তারিখের যে ঘটনা দেখাইছে, ওখানে কোনো ঘটনাই ঘটে নাই। তবে মামলার আসামি যাদের দিছে- তা বেশিরভাগই ব্যক্তি কোন্দল এর কারণে। মামলার উদ্দেশই খারাপ, ফলাফলও খারাপ- এ মামলার কোনো মেরিট নাই। যাদের আসামি দিছে তাদের সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে।’
প্রতিনিধি/এলএ