জেলা প্রতিনিধি
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
চলতি মৌসুমে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দ্বিতীয় দিনে বেড়েছে জাহাজের সংখ্যা। প্রথম দিন একটি জাহাজ চললেও শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্ত হয়েছে আরও দুটি। এদিন তিনটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।
শুক্রবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা এমভি বারো আউলিয়া রাতেই কক্সবাজারে ফিরে আসে।
জাহাজসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার তিনটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক রয়েছেন। এর মধ্যে এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক রয়েছেন। দুপুরের মধ্যে তাদের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুমোদিত তিনটি জাহাজ নিয়মিত চলাচল করবে। এসব জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। তবে এ বছর প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি থাকায় প্রয়োজন হলে জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।

এদিকে প্রথম দিনের যাত্রীসংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। জাহাজটিতে কতজন পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন, সে বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন দফতরের হিসাবে পাওয়া গেছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য। পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের হিসাবে ৮৩৭ জন, বিআইডব্লিউটিএর হিসাবে ৮৩০ জন এবং ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে ৮৮৬ জন পর্যটক দ্বীপে গেছেন।

এ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে ট্রাভেল পাস নিয়ে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে পর্যটকদের জাহাজে ওঠার কথা। তবে প্রথম দিন এ নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রী গণনায় এমন অসংগতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পর্যটকেরা।
প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পর্যটক মিহির সেন। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো দ্বীপে যাচ্ছেন। মৌসুমের প্রথম যাত্রা হওয়ায় আনন্দ ও উত্তেজনা আরও বেশি।

তবে আনন্দের পাশাপাশি প্রথম দিনের যাত্রায় ভোগান্তির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন পর্যটক। ঢাকা থেকে আসা সমির মল্লিক বলেন, ‘এবারের মতো হয়রানির শিকার আগে কখনো হতে হয়নি। অনলাইনে টিকিট কাটার পরও যদি ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ পর্যটকদের কী অবস্থা হবে?’
তিনি জানান, এবার সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা, যা আগে ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা।

উল্লেখ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ চালুর কথা ছিল। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, নৌযানের ছাড়পত্র ও পরিবেশগত শর্ত পূরণসংক্রান্ত জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ছাড়পত্রের ঘাটতির কারণে প্রথম কয়েক দিন জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
এদিকে নুনিয়ারছড়া ঘাটে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রতিনিধি/এসএস