জেলা প্রতিনিধি
০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
মৌলভীবাজারে পূর্ববিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর তার বাসায় রিভলবার রেখে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তুহিন আহমদ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অস্ত্র আইন ও অপহরণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পৌর শহরের বড়কাঁপন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বড়কাঁপন আবাসিক এলাকার শফিকুল ইসলাম লিটনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় সংবাদদাতার সহযোগী পরিচয়ে একই গ্রামের তুহিন আহমদ, ফাহিম আহমদ ও বাবুল মিয়া পুলিশের সঙ্গে ওই বাসায় যান।
বাসা তল্লাশির সময় তাদের অতিরিক্ত আগ্রহ এবং পরবর্তী সময়ে রিভলবার বের করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে অস্ত্রটি উপস্থাপনকারী তুহিন আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার সঙ্গে থাকা অপর দুজন পালিয়ে যান।
এ সময় পুলিশ বাসার ভাড়াটিয়া শফিকুল ইসলাম লিটনকে আহত অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে লিটন অভিযোগ করেন, গত ৩ নভেম্বর রাতে পূর্ববিরোধের জেরে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদের (মাসুদ কমিশনার) নেতৃত্বে তুহিন, ফাহিম, বাবুলসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জন মাদক সেবনের অজুহাতে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান।
পরে মাসুদ আহমদের বাসার একটি অন্ধকার কক্ষে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একপর্যায়ে তার হাতে একটি রিভলবার দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিটনের অভিযোগ, পরে মাসুদ আহমদের নির্দেশে তুহিনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে রাত আনুমানিক দুইটার দিকে নিজ বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। তাকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে চারটি গুলিসহ একটি রিভলবার বাসার সোফার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে তারাই পুলিশকে খবর দেন।
মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার জানান, এ ঘটনায় তুহিন আহমদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আটক আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/এআরএম