জেলা প্রতিনিধি
০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
বরিশাল নগরীর উন্নয়ন, পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং নান্দনিক নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৭৩০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, খাল দখল ও দূষণ এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভোগান্তি থেকে মুক্তির আশায় বরিশাল নগরবাসীর মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩০টি খাল ও ১০টি পুকুর পুনঃখনন ও সংস্কার, ১৯টি ঘাটলা নির্মাণ এবং ৫৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হবে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণসহ পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন’ প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ সরকার এবং বাকি ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৭৩ কোটি টাকা বরিশাল সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩০টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের পাশাপাশি খালের পাড় সংরক্ষণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি খালের দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ ও নান্দনিক আলোকসজ্জা করা হবে। কীর্তনখোলা নদী থেকে খালগুলোতে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া নগরীর ১০টি পুকুর ও লেক পুনঃখনন, পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। এর মধ্যে নবগ্রাম রোডের চৌমাথা লেক, গোল পুকুর, ত্রিশ গোডাউনসংলগ্ন বধ্যভূমির পুকুর, গড়িয়ার পাড়ের ত্রিকোণ পুকুর ও আমানতগঞ্জ পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরে বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৯টি নান্দনিক ঘাটলা নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য স্থানে সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতি স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, পুকুরগুলোকে জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে এসব ঘাটলা নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৫৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে।
বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং খাল-পুকুরের নাব্যতা ও পরিবেশগত সংকট নিরসনে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ হিসেবে পরিচিত বরিশালের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পথও সুগম হবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নগর প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরিশাল মহানগরীর উন্নয়নে প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়ে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কাজ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বরিশালে আমন্ত্রণ জানানোর আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ৭৮০ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় নতুন ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বরিশাল মহানগরীর উন্নয়নে অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এআরএম