জেলা প্রতিনিধি
০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনজনকে হত্যার দায়ে চার ভাইসহ ৫ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় আরও ৭ জনকে। দোষ প্রমাণ না হওয়া খালাস পান চারজন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে চারজন আপন ভাই। তারা হলেন-সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ এবং জসিম। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যজন আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। এছাড়াও তাদের প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ, স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়। অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া শামীম ও হাবু মিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম করাদণ্ড দেওয়া হয়।
অপরদিকে আসামি মজনু মিয়ার ১ বছরের সশ্রম, রাজিয়া খাতুন, সুফিয়া খাতুনের ৬ মাস এবং সাহেরা ও খাতুনি বেগমের তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার জানান, ২০১৬ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ ১০ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিচারক আজ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানান, রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
প্রতিনিধি/এজে/এমআর