জেলা প্রতিনিধি
০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ এএম
দীর্ঘ অপেক্ষার পর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে। সরকারি অনুমোদন পাওয়া এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ পর্যায়ক্রমে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।
তিনি জানান, পর্যটকের সংখ্যা যা-ই হোক, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জাহাজ চলাচল শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করা হলেও বিভিন্ন জটিলতায় এত দিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি।
নৌপরিবহন অধিদফতর ও পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর অনুমোদন এবং জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার পর জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাহাজগুলো কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে রওনা দেবে।
অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে এবং সেন্টমার্টিন থেকে ফিরবে বেলা আড়াইটায়। এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে ফিরবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। আর এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার ছাড়বে এবং সেন্টমার্টিন থেকে ফিরবে বিকেল সাড়ে ৩টায়।
সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া দ্বীপ ভ্রমণে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং কেনাবেচাও করা যাবে না।
এছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ কোনো ধরনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকসহ যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি দ্বীপের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মানার প্রতিও গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এএইচ