০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ঢাকার সাভারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম, ছয় সাংবাদিকসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় চার-পাঁচটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এদিন সকালে শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ দিতে গেলে পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিকদের একাংশ বাড়ি ফিরে গেলেও অন্যরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এ সময় শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় একটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুর এবং পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে শ্রমিকদের হামলায় সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম আহত হন। এছাড়া পুলিশের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন। একই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন ৪ গণমাধ্যমকর্মী।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন- সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদা, ঢাকা মেইল ও স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি আহমাদ সোহান সিরাজী, একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন ও একই টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন উজ্জ্বল হোসেন।
আহত সাংবাদিকরা জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পেয়ে তারা পদ্মার মোড়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। কয়েকজন শ্রমিকের বক্তব্য নেওয়ার পর ভিডিও ধারণের সময় মাস্ক পরা একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। সাংবাদিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লাঠিসোঁটা ও ইট দিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফায় পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপের মুখে শ্রমিকরা পদ্মার মোড় ছেড়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ বারবার সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও শ্রমিকেরা অবস্থান অব্যাহত রাখেন। পরে পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এরপর শ্রমিকরা আবার পদ্মার মোড় এলাকায় ফিরে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ বিক্ষোভের মধ্যে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাভারের উলাইল এলাকায় আল মুসলিম গ্রুপের একটি কারখানায় হামলা চালান একদল বিক্ষোভকারী। এ সময় কারখানাটির শ্রমিকেরা বেরিয়ে এসে হামলাকারীদের প্রতিহত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ছাড়া আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও আশপাশের এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসব ঘটনায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে, ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৪০ জন বহিরাগতকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) ও আশুলিয়ার নরসিংহপুরে হামিম গ্রুপসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। আন্দোলনের নামে কোনো বহিরাগত নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে বহিরাগতদের উসকানিতে প্ররোচিত না হয়ে প্রকৃত শ্রমিকদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এএইচ