জেলা প্রতিনিধি
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
ডাকাতির স্বর্ণ ভাগাভাগি নিয়েই খুন হন মাগুরার যুবদল নেতা শাকের। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
পুলিশ সুপার জানান, শাকের হত্যা ও স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণের বার এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তের প্রায় ৯৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা এবং ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির পৃথক দুটি চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেন পুলিশ সুপার। দুটি ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত যানবাহন, স্বর্ণের বার, বুলেট ও খালি কার্তুজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত।
পুলিশের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে মাগুরা সদর থানার রামনগর এলাকা থেকে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে পুলিশ পরিচয়ে ওঠে অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল। তারা বাস থেকে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের মো. মজিবর রহমানকে (৪৮) নামিয়ে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ১৫০ ভরি তেজাবি স্বর্ণের দণ্ড এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মামলায় লুণ্ঠিত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় মজিবর রহমান বাদী হয়ে ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি তেজাবি কাটা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার মডেলের দুটি মোটরসাইকেল এবং রুপালি রঙের একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে মোটরসাইকেলে এসে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে (৩৬) মাথায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিনাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে মারুফ হোসেনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির পর লুট করা স্বর্ণ নিজের কাছে রেখে দেন মারুফ হোসেন। স্বর্ণের ভাগ না পেয়ে শাকের হোসেন বারবার তার পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে।
একপর্যায়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। শাকেরকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। মারুফ ওই টাকা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি শাকের। তিনি স্বর্ণের ভাগ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, শাকেরের অব্যাহত চাপের মুখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মারুফ। একপর্যায়ে তিনি গোলাম জাহিদকে শাকেরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। পরে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গোলাম জাহিদের যমুনা ব্যাংকের হিসাবে ২০ লাখ টাকা পাঠান মারুফ। এরপরই শাকেরকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন- রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)।
তাদের কাছ থেকে বুলেট, খালি কার্তুজ এবং ৫১ দশমিক ৯ ভরি ওজনের পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পৃথক দুটি মামলায় মোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম। দুই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মোট ১১ জন।
পুলিশ আরও জানায়, দুই মামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেফতার গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/এএইচ