জেলা প্রতিনিধি
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ফেনীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। চলতি বছরে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৯ জন। গত বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে সাত গুণের বেশি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৩২ জনের।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৭৩ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দুজনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রয়েছেন ৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৯ জন। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত হন ৬০৪ জন। চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম চার দিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১১২ জন।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফেনী সদর উপজেলায়। এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১০১ জনের। এছাড়া সোনাগাজীতে ১৩৫, দাগনভূঞায় ৯৬, ছাগলনাইয়ায় ৭২, পরশুরামে ৩৫ ও ফুলগাজীতে ২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ জেলার মোট আক্রান্তের প্রায় ৭৫ শতাংশই ফেনী সদর উপজেলার বাসিন্দা।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৬৫ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯২১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৪ জন। এর মধ্যে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৭ জন।
এদিকে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে ২ হাজার ৩০টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই নিয়মিত পানি অপসারণের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এএইচ