জেলা প্রতিনিধি
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
সাতক্ষীরার দেবহাটার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার কথা বলতেন সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুল—এমন অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক জনপ্রতিনিধির পারিবারিক ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগসংক্রান্ত কয়েকটি অডিওতে বাবুলের কথোপকথন শোনা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মামুনের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে বাবুলকে দেখা গেছে। তিনি মাঝ সখিপুর গ্রামের মৃত দাউদ গাজীর ছেলে।
অডিও কথোপকথনে বাবুলকে এক লাখ টাকা দাবির কথা বলতে শোনা যায়। প্রথম অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “ভাই, কী লাইন? আপডেট জানালেন না। সে (মামুন) এক কথায় রাজি না। সে বলেছে, আমি এসব ছোটখাটো কাজ করি না। ভালো করে খায়, না হলে খায় না ভাই। না হলে থাক, সমস্যা নেই।”
এরপর ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ করে বাবুল বলেন, “ভাই, সে এক কথায় এক লাখ টাকা চাচ্ছে। এবার কী বলব বলেন? সে তো ৫০ হাজার টাকার কথাও শুনবে না।”

দ্বিতীয় অডিওতে বাবুলকে ভিডিও মুছে ফেলার বিষয়ে সমঝোতার কথা বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, “আমি বললাম, ভাই, জিনিসটা বেশি বাড়াবাড়ি করিয়েন না, জিনিসটা ডিলিট করে দেন। হ্যাঁ বলার পর সে বলল, সব সমাধান হোক, আমি ডিলিট করে দিচ্ছি। সমস্যা নেই। আপনি যে অ্যামাউন্ট চাচ্ছেন, সেই অ্যামাউন্টে আপনার সঙ্গে ডিল ফাইনাল করতে হবে।”
ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ করে বাবুল আরও বলেন, “ভাই, আপনি তো জানেন, ভুক্তভোগী আপনার আত্মীয় হওয়ায় শুধু আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে সেগুলো ছাড় দিয়েছি।”
একই অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “শুধু একটা স্টোরি দিয়েছি। ভাই, ৩০ হাজার টাকা দেবেন, থেমে যান ভাই। নিজেদের মধ্যে এটা করিয়েন না।”
এরপর বাবুল বলেন, “সে বলছে, ওকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার দরকার নেই। আমার তো বাণিজ্য করার দরকার নেই, আমার ভিউর দরকার। আপনার আত্মীয়কে বলবেন, দেখা করবেন, কথা বলবেন। ব্যস্ততার কারণে আমি সময় দিতে পারিনি। আপনি ৫০ হাজার টাকা দেন, আমি হাত-পা ধরে হলেও আপনার ভিডিওর বিষয়টি মিটমাট করে নেব।
এদিকে গত ১ নভেম্বর এ ঘটনায় মামলা করেছেন দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাহেব আলী। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং ভুক্তভোগীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে (মৌসুমি) তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি জিসান বাবুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে ঝামেলায় আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান ফরহাদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ অনৈতিক ও অন্যায় কাজ করলে দল তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। দলের নাম ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম মেনে নেওয়া হবে না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে সাতক্ষীরা সদর থানায় দায়ের করা মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস