জেলা প্রতিনিধি
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতক্ষীরার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আব্দুল্লাহ আল মামুন দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, টাকা দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ১ নভেম্বর দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাহেব আলী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কারণে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে সাহেব আলী তার স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে ওই নারীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, ভুক্তভোগীর অজান্তে তার দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন সাবেক স্ত্রী। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা সেসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপে তাকে পাঠান।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে সাহেব আলীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাদের কথা না শুনলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটার দিকে আবার যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
এ ছাড়া, ২৯ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর দুপুর দুইটার দিকে আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বাদী। অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাহেব আলী বলেন, সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। প্রথমে পাঁচ লাখ, পরে তিন লাখ এবং একপর্যায়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। টাকা দেওয়ার পরও তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল। নিরুপায় হয়ে তিনি থানায় মামলা করেছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস