জেলা প্রতিনিধি
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
পৃথিবীর আলো দেখার পর মায়ের বুকের দুধ, আদর আর ভালোবাসায় বেড়ে ওঠার কথা যে শিশুটির, তার জীবনেই নেমে এসেছে কঠিন বাস্তবতা। জন্মের মাত্র এক মাসের মাথায় শিশুটির মায়ের জীবন এখন সংকটাপন্ন। বিছানায় শুয়ে অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছেন ২০ বছর বয়সী টুকটুকি। আর মেয়ের চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে না পেরে দিশেহারা তার দিনমজুর বাবা আব্দুল কাইয়ুম হাওলাদার।
টুকটুকি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের ভরাঘাটা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভাব-অনটনের মধ্যেই বিয়ে হয়েছিল তার। স্বজনদের ভাষ্য, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার স্বামী আজিজুল ইসলাম তাকে ছেড়ে চলে যান। স্বামীর অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সন্তান জন্ম দেন টুকটুকি। তবে সন্তান জন্মের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে রক্ত জমাট বেঁধে শক্ত চাকা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। রক্তক্ষরণও বন্ধ হয়নি।
একদিকে নবজাতক সন্তানকে আগলে রাখার দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের জীবন বাঁচানোর লড়াই—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন টুকটুকি। মেয়ের চিকিৎসায় দিনমজুর বাবা নিজের সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করেছেন। ধারদেনা করে এবং সহায়-সম্বল খরচ করে এত দিন চিকিৎসা চালিয়েছেন। কিন্তু এখনো তার সুস্থতার নিশ্চয়তা মেলেনি।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, টুকটুকির দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এ জন্য আনুমানিক দুই থেকে তিন লাখ টাকা দরকার। কিন্তু দিন এনে দিন খাওয়া আব্দুল কাইয়ুম হাওলাদারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। নিজের সর্বস্ব ব্যয় করেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার খরচ মেটাতে পারছেন না তিনি।
অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে না পেরে বর্তমানে বিছানায় দিন কাটছে টুকটুকির। একদিকে নিজের জীবন বাঁচানোর আকুতি, অন্যদিকে কোলের শিশুটির ভবিষ্যৎ—এই দুই চিন্তায় উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে তার পরিবারের।
মাত্র এক মাস বয়সী শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে পরিবারের সদস্যদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। তাদের আশা, দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে মায়ের কোলে ফিরতে পারবে শিশুটি।
এ অবস্থায় টুকটুকির চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, মানবিক সংগঠন এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য বিপু আহম্মেদ। তার প্রত্যাশা, সম্মিলিত সহযোগিতায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা সংগ্রহ করা গেলে টুকটুকির অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

ইউপি সদস্য বিপু আহম্মেদ বলেন, অর্থের অভাবে যেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণীর জীবন অকালে ঝরে না যায়। এক মাসের শিশুটি যেন মায়ের স্নেহ ও আশ্রয় থেকে বঞ্চিত না হয়। মানুষের সামান্য সহযোগিতাও টুকটুকির চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মোড়েলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, নিয়ম মেনে আবেদন করলে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
একটি পরিবারের প্রত্যাশা, মানুষের সহযোগিতায় দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে টুকটুকির। মায়ের স্নেহ-ভালোবাসায় বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে তার এক মাস বয়সী সন্তান।
প্রতিনিধি/এসএস