জেলা প্রতিনিধি
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নতুন সাজে সেজেছে খুলনা নগরী। আগামীকাল তার সফরকে সামনে রেখে নগরজুড়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সড়ক, সড়ক বিভাজক, দেয়াল থেকে শুরু করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। নগরবাসীর অনেকের মতে, খুলনাকে এতটা পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি আগে কখনো দেখা যায়নি। এমনকি ডেঙ্গুর প্রকোপ মহামারি আকার ধারণ করার সময়ও নগরীতে এমন পরিচ্ছন্নতা চোখে পড়েনি।
নগরীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গল্লামারী সেতু এলাকার ভাঙাচোরা সড়কের বিভিন্ন অংশেও ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের জায়গাগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নেওয়া এসব উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মধ্যে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর স্মরণীয় করে রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা বিএনপি। প্রচলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে নগরী সাজানোর পরিবর্তে পরিচ্ছন্নতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। শিববাড়ী মোড় থেকে রেলস্টেশনের প্রধান ফটক পর্যন্ত দেয়ালে আঁকা হয়েছে নানা গ্রাফিতি। এসব চিত্রকর্মে তুলে ধরা হয়েছে খুলনার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। স্থান পেয়েছে জুলাইয়ের স্মৃতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি, সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, একসময়ের ঐতিহ্যবাহী পাটকল এবং ক্রীড়াঙ্গনের গৌরবগাঁথা।

বিএনপি নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুলনার ইতিহাসে কোনো নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন হতে যাচ্ছে।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক বিভাজকের আগাছা পরিষ্কার করছেন। শেরেবাংলা সড়কের নিরালা অংশ থেকে অস্থায়ী মেলার স্টল সরিয়ে সেখানে গাছ লাগানো হয়েছে। শিববাড়ী মোড়ের ডিভাইডারের ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করা হয়েছে। বিবর্ণ ডিভাইডারগুলোতে দেওয়া হচ্ছে নতুন রং। রাস্তার পাশের উন্মুক্ত ডাস্টবিনও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগে এসব স্থান দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হতো পথচারীদের। এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন তারা।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো যেভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে, তা যেন শুধু সফরকেন্দ্রিক না হয়ে নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়।

নগরীর বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে দলীয় নেতাদের টানানো বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন খুলে ফেলা হয়েছে। সেসব স্থানে এখন শোভা পাচ্ছে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে টানানো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর উদ্বোধনী বার্তা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি। রূপসার কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরেবাংলা রোড, পাওয়ার হাউস মোড় পেরিয়ে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেবেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সফর ঘিরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও কর্মসূচিস্থল সাজানোর পাশাপাশি নেওয়া হচ্ছে নানা সাংগঠনিক উদ্যোগ। জেলার নয় উপজেলায় বিএনপি নেতারা দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করছেন। ব্যাপক জনসমাগমের মাধ্যমে দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানানোই তাদের লক্ষ্য।

নেতারা জানান, সফরকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সফর শেষ হওয়ার পরও নগরীর সৌন্দর্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নগরবাসী এ উদ্যোগের সুফল পান।

আগামীকাল বিকেল ৩টায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে সকালে মোংলা বন্দরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। পরে সড়কপথে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরিফে যাবেন। সেখানে জিয়ারত শেষে আবার সড়কপথে খুলনা শহরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিনিধি/এসএস