Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ঘরের ভেতর ‘গায়েবি কবর’ বানিয়ে প্রতারণা, শেষ রক্ষা হলো না সজীবের

জেলা প্রতিনিধি

০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

বসতঘরের মেঝেতে তৈরি করা হয়েছিল দুটি কথিত ‘অলৌকিক কবর’। দাবি করা হচ্ছিল, গায়েবিভাবে জেগে উঠেছে বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী ও খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর কবর। এসব কবর ঘিরে চলছিল ঝাড়ফুঁক ও কথিত চিকিৎসা। প্রতিদিন ভিড় করতেন অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। তবে প্রশাসনের জিজ্ঞাসাবাদে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসে প্রতারণার ঘটনা। কবর দুটি নিজ হাতে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন সজীব বেপারী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুয়া কবর ঘিরে অপচিকিৎসা ও প্রতারণার সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালায়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল। সঙ্গে ছিলেন আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান। 

তারা সজীব বেপারীর বাড়িতে গিয়ে বসতঘরের মেঝেতে তৈরি করা দুটি কবর দেখতে পান। এ সময় সজীব ও তার মা শিউলী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সজীব নিজেই কবর দুটি তৈরি করে অলৌকিকভাবে জেগে ওঠার মিথ্যা প্রচারের কথা স্বীকার করেন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে কোদাল দিয়ে কবর দুটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন তিনি। 

তবে কী উদ্দেশে এসব কবর তৈরি করেছিলেন, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সজীব। ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না মর্মে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সজীব বেপারী ওই গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে। প্রায় ছয় মাস ধরে তিনি কথিত ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন তার কাছে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রাতে রোগীর ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যেত।

গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে একটি এবং একই দিন রাত ১২টার দিকে আরেকটি কবর ঘরের মেঝেতে গায়েবিভাবে জেগে উঠেছে বলে সজীবের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়। কবর দুটির একটিকে বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী এবং অন্যটিকে খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর বলে দাবি করেন সজীব। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কবর দুটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। একই সঙ্গে তার কথিত চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীর সংখ্যাও বেড়ে যায়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য ঘটনাস্থলে গিয়ে সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি নিজেই কবর তৈরির কথা স্বীকার করেছেন। পরে নিজের হাতে কবর দুটি ভেঙে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না মর্মে সজীব ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে এ ধরনের প্রতারণা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অসুস্থ ও অসহায় মানুষ সুস্থতার আশায় অনেক সময় কথিত ঝাড়ফুঁক কিংবা অলৌকিক চিকিৎসার আশ্রয় নেন। এ সুযোগে কেউ অর্থনৈতিক বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা প্রতারণার শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

প্রতিনিধি/এলএ