জেলা প্রতিনিধি
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
বিভিন্ন বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ১৩৭টি বিষধর সাপ হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায় অবস্থিত প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অফিসে এগুলো হস্তান্তর করেন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য পরিবেশকর্মী রবি কাস্তা।
সাপগুলো গ্রহণ করেন প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন। পরে সাপগুলো প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়। এর আগে বিভিন্ন বসতবাড়ি থেকে সাপগুলো উদ্ধার করেন পরিবেশকর্মী রবি কাস্তা।
সন্ধ্যায় বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানান, উদ্ধার করা সাপের মধ্যে রয়েছে ৭০টি পদ্মা গোখরা, ৬০টি খইয়া গোখরা, পাঁচটি দারাশ, একটি মা দারাশ, একটি মা খইয়া গোখরা ও পাঁচটি ডিম । সব মিলিয়ে সাপ ও ডিমের সংখ্যা ১৪২টি। এর মধ্যে সাপ ১৩৭টি। উদ্ধার করা কয়েকটি ডিম থেকে ইতোমধ্যে বাচ্চাও ফুটেছে।
প্রাথমিকভাবে সাপগুলো রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। এতগুলো বিষধর সাপ একসঙ্গে সেখানে ছেড়ে দিলে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়।
চুনারুঘাট বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, এতগুলো বিষধর সাপ সাতছড়ি কিংবা ছোট আয়তনের অন্য কোনো বনে অবমুক্ত করা হলে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি থাকতে পারে। তাই সাপগুলোর জন্য বড় কোনো বনাঞ্চল বা উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থল বেছে নেওয়া প্রয়োজন। কোথায় অবমুক্ত করলে মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ জানিয়েছে, সাপগুলো অবমুক্তির উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এজে