জেলা প্রতিনিধি
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
যে সড়কে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন শিক্ষার্থী মাইশা, সে সড়কেই তাকে শেষ বিদায় জানালো তার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো সহপাঠী ও শিক্ষকরা। এসময় মাইশাকে বিদায় জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহপাঠীরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের সামনের সড়কে সহপাঠী ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই স্থানে একটি মিনিবাস উল্টে চাপা পড়েন মাইশাসহ আরও দুই শিক্ষার্থী। এতে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন মাইশা।
মাইশা মুশফিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া এলাকায়।
মাইশার মৃত্যুর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বেশ কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল, এতে তৈরি হয় দীর্ঘ ১০ কিলোমিটারের যানজট। পরে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দ্রুত পূরণের আশ্বাসে সড়ক ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় আটদফা দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- দুর্ঘটনায় জড়িত লরির চালক ও মালিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার, মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ।
এ ছাড়াও সড়ক প্রশস্তকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দুপাশে পদচারী-সেতু নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে প্রধান ফটকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি লরির ধাক্কায় ৮ নম্বর রুটের একটি মিনিবাস উল্টে যায়। এ সময় সড়কের পাশে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর বাসটি পড়ে। এতে বাসের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন মাইশা। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিনিধি/এলএ