জেলা প্রতিনিধি
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাত আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে পলাতক অপর ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে এই মামলার ১৩ আসামির মধ্যে সাতজন আদালতে সশরীরের হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে কারাগারে যাওয়া সাত আসামি হলেন- রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সাবেক লেটার রাইটার মাহবুবর রহমান, সাবেক পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম, সাবেক পোস্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রাণী দাস এবং সটিং অপারেটর নুরুল মাসুদ।
আদালতে অনুপস্থিত থাকা মামলার বাকি ছয় পলাতক আসামিরা হলেন, তারা হলেন- সাবেক পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, শিহাবের ভাই পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, ট্রেজারার প্রণব কুমার সরকার, পোস্টাল অপারেটর গোলাম মোস্তফা বাচ্চু এবং তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে প্রায় ১১০ জন গ্রাহকের জমা রাখা প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহক নাসরিন আক্তার গত ৩০ জুলাই ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিলেন।
এদিকে, মামলার রায় ঘোষণার আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকেরা তাদের কষ্টার্জিত জমানো টাকা ফেরতের দাবিতে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম লাভলু বলেন, আজকে রাজবাড়ীর একটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি হয়েছে। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সাত আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে এবং পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে। এ আদেশের মাধ্যমে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা প্রাথমিক পর্যায়ে হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে আমরা মনে করছি। বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমরা এই আদেশে সন্তুষ্ট।
প্রতিনিধি/এলএ