জেলা প্রতিনিধি
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
খুলনার সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাত সাত্তার বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত খুলনার কয়রা ও দাকোপ এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
উদ্ধার জেলেরা হলেন- কয়রা উপজেলার জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)।
কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদে কয়রা ও দাকোপে অভিযান চালানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনের কয়রা থানার আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় ডাকাত সাত্তার বাহিনী কয়েকজন জেলেকে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করে রেখেছে বলে খবর পায় কোস্টগার্ড। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী যৌথ অভিযান চালায়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা জিম্মিদের রেখে বনের গহিনে পালিয়ে যায়। এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, দাকোপ থানার সুন্দরবনের কুমড়োখালী খালসংলগ্ন এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশে একটি দল অবস্থান করছে— এমন গোপন সংবাদে বেলা ১১টার দিকে কোস্টগার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন নলিয়ান যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা বনের গহিনে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা চারটি একনলা বন্দুক, একটি ০.২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫২ রাউন্ড ০.২২ ক্যালিবার বন্দুকের গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ