জেলা প্রতিনিধি
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ইউপিডিএফ সমর্থিত দুই সংগঠনের ডাকা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চতুর্থ দফায় দ্বিতীয় দিনে গড়াল। তবে বুধবার থেকে অবরোধের সময় যানবাহন চলাচলে কিছু শিথিলতা এনেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি জানিয়েছে, অবরোধের সময় যেসব যানবাহন আওতামুক্ত বলে ইতোপূর্বে ঘোষণা করা হয়েছিল, তার সঙ্গে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের পরিবহন ও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মঙ্গলবার সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্ববায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, তাদের দুই সংগঠনের যৌথ সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সাজেকের পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ী ও কৃষকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে তারা জানায়, সাজেকবাসীর পাঁচ দফা ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর (সোমবার) বিকেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ৫ দফা দাবি নিয়ে সাজেকের উজোবাজারে সরকারের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। তবে পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও একটি দাবি মেনে না নেওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিত থেকে গেছে। তাদের দাবিগুলো মধ্যে রয়েছে—
১. অবরোধকারীদের ওপর ‘বিনা উসকানিতে হামলার’ সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে এবং হামলায় নেতৃত্বদানকারী বাঘাইহাট ক্যাম্প কমান্ডার ও মাচালং ক্যাম্প কমান্ডারকে পার্বত্য অঞ্চল থেকে বদলি করতে হবে। এ ছাড়া ‘মিথ্যা নাটক’ সাজিয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০০ জনের নামে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
২. উজোবাজারের স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উজোবাজার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে সরিয়ে নিতে হবে।
৩. আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক যেসব নারী-পুরুষকে মারধর করে আহত করা হয়েছে; তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ভার গ্রহণ করতে হবে।
৪. জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের ‘সশস্ত্র’ সদস্যদেরকে সাজেক থেকে অতি দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে।
৫. আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের কাউকে সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে গ্রেফতার, হয়রানি ও তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি করা যাবে না। এসব পাঁচ দাবির মধ্যে চারটি দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও ৪ নম্বর দাবি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়।
এদিন বিকেলে বৈঠকের পর রাতে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে। তাদের ৫টি দাবি ছিল। মোটামুটি সমঝোতা হয়েছে, তবে আর একটি বিষয়ে একটু বাকি রয়েছে৷ আশা করি, দুই-একদিনের মধ্যে বাকি পয়েন্টটা আলোচনা করে একটা সমাধানের দিকে যাবে এবং সহসাই অবরোধ প্রত্যাহার করে রাস্তা সচল হবে।
তবে আলোচনার এক সপ্তাহ পেরোলেও সাজেক সংকটের আশানুরূপ সমাধান আসেনি। এরমধ্যে গত শনি ও রোববার সাজেক ইউনিয়নের দুই এলাকায় ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্যদের মধ্যে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরস্পর ‘বন্দুক যুদ্ধের’ খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিনিধি/এফএ