Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

গাইবান্ধায় জমি দখল করতে বিধবার ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে লাভলী বেগম (৩৮) নামের এক বিধবা নারীর আবাদ করা আমন ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি সেলিম রেজা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগকারী লাভলী বেগম উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারায় গ্রামের মৃত ফয়জার রহমানের স্ত্রী ও নয়াব উদ্দিনের মেয়ে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লাভলী বেগম ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ৭০০১ নম্বর দলিলমূলে সোনারায় মৌজায় ১৭ দশমিক ৫ শতক জমি কেনেন। এরপর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তবে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রতিবেশী মৃত ইছিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারী (৬০) ও আবুল কালাম (৫৫) সহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছে।

এ বিরোধের জেরে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় ৩৫২/২০২৬ নম্বর পিটিশন মামলা করেন লাভলী বেগম। একই জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতেও ৪৪৩/২০২৬ নম্বরে আরেকটি মামলা চলমান রয়েছে।

লাভলী বেগমের অভিযোগ, মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় গত সোমবার সকালে আব্দুল বারী ও আবুল কালাম ভাড়াটে লোকজন নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তার জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় জমিতে আবাদ করা আমন ধান কেটে নিয়ে যান তারা। এতে তার প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ধান কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা লাঠি ও কাস্তে উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।

এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে গত ২৪ আগস্ট গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একটি আদেশ দেন। এতে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসিকে নালিশি জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জমির দখল বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। উভয়পক্ষকে আদালতে হাজির হয়ে জমিতে নিজ নিজ দখলের পক্ষে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত বক্তব্য দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল বারী বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি আমার পৈতৃক। ধান পাকায় আমরা কেটেছি। লাভলী বেগম আমাদের নামে বারবার মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তিনি আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন।

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, অভিযোগটি গত সোমবার পেয়েছি। এরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসআই