Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও সেতুবিহীন পদ্মমুখ, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা থেকে বঞ্চিত বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ পদ্মমুখ এলাকার অন্তত ১৫টি গ্রামের দেড় হাজার মানুষ। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে তিন্দু ইউনিয়নের পদ্মমুখ এলাকায় পদ্ম ঝিরির প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ খুম (পাহাড়ি ঝিরির গভীর খাদ বা পানিপথ) পারাপারে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে তাদের। প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে কোনো রকমে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে বন্ধ হয়ে যায় পারাপার, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আশপাশের জনপদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও সেখানে নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী সেতু। শুধু তাই নয়, স্থায়ী পারাপারের জন্য কেনো রাস্তার ব্যবস্থাও করা হয়নি। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে পদ্ম ঝিরির খুম পারাপারের স্থানে একটি টেকসই সাঁকো অথবা স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড পদ্মমুখ এলাকায় পদ্ম ঝিরির ওপর দিয়ে বয়ে চলা খালের পদ্মঝিড়ি ভিতর মুখ নামক একটি স্থানে নেই কোনো স্থায়ী সেতু কিংবা নিরাপদ চলাচলের রাস্তা। ফলে দুটি মৌজার অন্তত ১৫টি গ্রামের মেবক্য মৌজা, পদ্ম মৌজা ও ক্রাইক্ষ্যং মৌজার প্রায় দেড় হাজার মানুষকে বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝিরির পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে এসব গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্ম ঝিরির খুম পারাপারের পথটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে নেই কোনো স্থায়ী সেতু কিংবা টেকসই সাঁকো। যুগের পর যুগ ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এই পথকেই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন বলে জানিয়েছেন। প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ সংগ্রহ করে সাঁকো নির্মাণ করেন তারা। তবে বর্ষায় পানির স্রোত বেড়ে গেলে সেই সাঁকো দিয়ে চলাচলও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষকে।

Padmamukh_Bandarban2

স্থানীয় বাসিন্দা উজিরাম ত্রিপুরা, উহ্লামং মারমা ও খুবাইতি ত্রিপুরাসহ অনেকে জানান, প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে পদ্ম ঝিরির খুম পার হতে হয়। একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া এবং কৃষিপণ্য বাজারে পরিবহন করতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ পথের কারণে জরুরি প্রয়োজনেও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

তারা আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে এভাবে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ বাড়লে পারাপারের কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা থাকে না। তাই স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত পদ্ম ঝিরির খুম এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা ঢাকা মেইলকে বলেন, অর্থসংকটের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে সেখানে টেকসই সাঁকো কিংবা স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে অন্তত ১৫ গ্রামের দেড় হাজার মানুষকে। 

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে পদ্ম ঝিরির খুম পারাপারের স্থানে একটি ২৫০ফুট স্থায়ী সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Padmamukh_Bandarban3

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) থানচি উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ বলেন, পদ্ম ঝিরির খুমের একপাশ দিয়ে চলাচলের পথটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে স্থানীয়দের আবেদন করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে আগামীতে প্রকল্পের বাজেটে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদ্মমুখ এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেবে। এতে দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার অবসান ঘটবে এবং অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে।

প্রতিনিধি/এসআই