জেলা প্রতিনিধি
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হবে। আর এই জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (০২নভেম্বর) দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন পেতে আগ্রহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
রোববার দাউদকান্দি উপজেলা সদরে মারুফ ভিলা এবং সোমবার গৌরীপুরে ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়।
দুই দিনের এই প্রার্থী বাছাই কর্মসূচিতে বিশেষ সমন্বকারী ছিলেন- কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, গণতন্ত্রের প্রথম পাঠশালা হচ্ছে- স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি দুর্বল হলে, অঙ্কুরেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন অগ্রগতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারসহ কোনো নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪-তে এক দলীয়, ২০১৮-তে দিনের ভোট আগের রাতে এবং ২০২৪-এ আমি-ড্যামি পাতানো নির্বাচন করেছে। এইভাবে তারা গায়ের জোরে ১৭ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছিল। ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশের অর্থনীতি এবং সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে পালিয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের কেন্দ্রে বসে সরকারের পক্ষে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের আলাদা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার নিজ এলাকার সমস্যা স্থানীয়ভাবে দ্রুত সমাধান করে থাকে।
ড. মারুফ বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট নির্মাণ, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক কাজগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সুচারুভাবে সম্পন্ন করে থাকে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। এই স্থানীয় পর্যায় থেকে রাজনৈতিক সচেতনতা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতা গড়ে ওঠে।
আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অধিক শক্তিশালী করতে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে সৎ, মেধাবী এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী প্রার্থীদের ভোটে নির্বাচিত করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান ড. খন্দকার মারুফ।
এই সময় বিএনপি নেতা ভিপি জাহাঙ্গীর আলম ও যুবদল নেতা রোমান খন্দকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এলএ