জেলা প্রতিনিধি
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
মাদারীপুরে মারিয়া আক্তার নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী ইমরান বেপারীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার সকালে শহরের সৈয়দারবালীর টিবি ক্লিনিক রোড এলাকার বাবারবাড়ি থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মারিয়া ওই এলাকার হানিফ মুন্সির মেয়ে। অভিযুক্ত ইমরান বেপারী ডাসার উপজেলার চিড়াইপাড়া এলাকার কালাম বেপারীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে ইমরান বেপারীর সঙ্গে বিয়ে হয় মারিয়া আক্তারের। বিয়ের পর খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ লেগেই থাকতো।
পরে বাবার বাড়ি চলে আসেন মারিয়া। রোববার রাতে শ্বশুরবাড়ি আসেন ইমরান। সোমবার ভোরে সেখান থেকেই উদ্ধার হয় মারিয়ার মরদেহ। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান স্বামী। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে দেয়।
স্বজনদের দাবি, যৌতুকের জন্য প্রায়ই মারিয়াকে মারধর করতো স্বামী। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ঘরে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন ইমরান।
এই ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা ও এলাকাবাসী। এদিকে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিহত মারিয়ার চাচি রুমা আক্তার বলেন, ‘৫ লাখ টাকার মালামাল দিয়ে বিয়ে দেওয়ার পরও প্রায়ই মারিয়াকে মারধর করতো তার স্বামী। মারিয়াকে হত্যার পর পালিয়ে যায় ইমরান। এই ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে কিছু পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া আটক ইমরানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এএইচ