জেলা প্রতিনিধি
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে ইট ভেঙে সুরকি ও খোয়া তৈরির কাজ চলছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রবেশপথের সামনে ইট ভাঙার পাশাপাশি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে এসব নির্মাণসামগ্রী। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
স্থানীয় ফজর আলী সরদারের বিরুদ্ধে এ কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বছরের পর বছর ধরে এভাবে ইট ভাঙার কাজ চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জানা গেছে, ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এলাকার সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে নারী, শিশু ও গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত এ কেন্দ্রে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। কিন্তু কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে ইট ভাঙার কাজ চলায় প্রবেশপথের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
ইট ভাঙার ফলে সৃষ্ট ধুলাবালি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, যা রোগীদের জন্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এ ধুলাবালি বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। চিকিৎসা নিতে এসে এমন পরিবেশের মুখোমুখি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে নির্মাণসামগ্রী স্তূপ করে রাখায় রোগীদের চলাচল এবং জরুরি প্রয়োজনে কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ইট, বালু ও সুরকি জমা করে রাখায় সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ ও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে ইট ভাঙার কাজ বন্ধ এবং কেন্দ্রের প্রবেশপথ ও মহাসড়কের পাশ থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
অভিযোগের বিষয়ে ফজর আলী সরদার বলেন, ‘আমি আগে জমজমাটভাবে ইট, বালুর ব্যবসা করতাম। এখন ব্যবসা কমিয়ে দিয়েছি। গোপালপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে আগে মেশিন দিয়ে ইট ভেঙে গুঁড়া করতাম। এখন কেবল একজন নারী শ্রমিক দিয়ে হাতে ইট ভেঙে বিক্রি করি। পরে সেখানে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করি। কারও কোনো ক্ষতি করছি না।’
ডাসার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মূলত জায়গাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিলেই সমাধান হবে। এটি এখনই বন্ধ করা না হলে অফিস চালানো কষ্টকর হয়ে যাবে।’
মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. ম. নকীবুল বারী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে এমন ব্যবসা করা আইনবিরোধী।’
প্রতিনিধি/এসএস