জেলা প্রতিনিধি
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ এএম
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। প্রকাশিত ফলাফলে সেই শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
শনিবার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাসের হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে কলেজটি।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে কোনো পরীক্ষার্থী ছিল না। একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্যে নেমে আসে।
১৯৯৮ সালে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে চালু করা হয় কলেজ শাখা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখায় ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। তারা সবাই এমপিওভুক্ত হয়ে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তবে কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় রয়েছে নানা সংকট।
স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক স্বর্ণা রানি বিশ্বাস বলেন, ‘কলেজটি গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় ছাত্র তেমন পাওয়া যায় না। এজন্য শিক্ষকরাও কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাদের কোনো উৎসাহ নেই।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এ জন্য প্রতিবছর নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করছেন।
প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার জানান, কলেজের অনুমোদন নেওয়ার সময় শিক্ষক ছিলেন। তবে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তারা চলে গেছেন। তার মতে, কলেজটি বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, ‘আমি এক সপ্তাহ হলো সভাপতির চিঠি পেয়েছি। এখনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মিটিং করতে পারিনি। এসব বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’
মুকসুদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব স্কুল পর্যায় দেখাশোনা করা। কলেজ বিভাগ আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কলেজ বিভাগ ঢাকা অঞ্চলের একজন পরিচালক দেখাশোনা করেন। তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী সংকটের কারণ, পাঠদান কার্যক্রম ও প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রতিনিধি/এসএস