জেলা প্রতিনিধি
০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জুমার খুতবায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলার অভিযোগে একটি মসজিদের খতিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) মসজিদ কমিটির সভাপতি তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। অব্যাহতি পাওয়া খতিবের নাম মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম।
তিনি নান্দাইল পৌরসভার পুরাবাড়িয়া মোড় এলাকার বাইতুল মাহফুজ জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি ফেরদৌস ভূঁইয়া তাকে অব্যাহতি দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর জুমার খুতবায় ‘মূর্তি ও ভাস্কর্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং তা থেকে মুসলমানদের উত্তরণ’ বিষয়ে আলোচনা করেন খতিব মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সোলাইমান মিয়া বলেন, খতিবের দায়িত্ব শুধু নামাজ পড়ানো নয়, সত্য কথা বলাও তার দায়িত্ব। তার বক্তব্যে কারও আপত্তি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা যেত। এভাবে হঠাৎ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া ঠিক হয়নি।
আ. হক নামে অপর এক মুসল্লি বলেন, কথার প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে খতিব ওই মন্তব্য করেছিলেন।
মসজিদের মুসল্লি কামাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আলেম-ওলামাদের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এ কারণে তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি ক্ষোভ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে খতিব এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন। তবে তাকে মসজিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভালো হয়নি। এ ঘটনায় মুসল্লিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করে খতিব মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করতে গিয়ে উদাহরণ হিসেবে ওই মন্তব্য করেছিলেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রতিহিংসাবশত তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ফেরদৌস ভূঁইয়া। তিনি বলেন, খতিব জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এক বছর আগে এক ছাত্রদল নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে দোয়া করতে বললেও তিনি তা করেননি। এছাড়া মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা এবং গত জুমার খুতবায় শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলার বিষয়টি নিয়েও আপত্তি ওঠে। এসব কারণে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শুরু করে বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আলেম-ওলামাদের বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ ছিল। এ কারণে তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে আলোচনার সময় খতিব এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন। তবে এ বক্তব্যের কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া ঠিক হয়নি। মসজিদ কমিটি তার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করতে পারত।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল হক তারেক বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর রোববার তিনি স্থানীয় থানাকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
/এএস