Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

জিয়ানগর হাসপাতালে নেই ডেঙ্গু কর্নার, বন্ধ সিবিসি পরীক্ষা

জেলা প্রতিনিধি

০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। তবে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই আলাদা ডেঙ্গু কর্নার বা ওয়ার্ড। ফলে সাধারণ রোগী ও ডেঙ্গু আক্রান্তরা একই কক্ষে পাশাপাশি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী মশারি ব্যবহার না করায় সাধারণ রোগীদের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্বজনরা।

বর্তমানে জিয়ানগর হাসপাতালে ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগী মিলিয়ে প্রায় ৪৫ জন ভর্তি রয়েছেন। পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার মানুষসহ জিয়ানগর উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।

3a62fe3e-dfa2-4644-845f-c8376b8655de

পিরোজপুর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ১০ মাসে জেলায় বিভিন্ন বয়সের ৪ হাজার ৬১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৪১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। বর্তমানে জিয়ানগর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ২০০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছেন জেলা হাসপাতালে। জিয়ানগর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী।

সরেজমিনে জিয়ানগর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীরা পাশাপাশি শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া দিনের অধিকাংশ সময় ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ছাড়া থাকতে দেখা যায়।

384b8928-495b-48a4-8fda-2af70798a75f

চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার উত্তর ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমি টাইফয়েডের রোগী। এখানকার অনেক ডেঙ্গু রোগী মশারি টানান না, দিনের বেশির ভাগ সময় মশারি খোলা রাখেন। এতে আমাদের ভয় হয়, আমাদেরও ডেঙ্গু হতে পারে। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই, একটি ডেঙ্গু কর্নার করা হলে সাধারণ রোগীরা কিছুটা নিরাপদ থাকতে পারব।’

উপজেলার পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরার ২২ দিনের অবরোধ থাকায় ট্রলারের কাজ করছিলেন। হঠাৎ জ্বর আসায় হাসপাতালে এনে পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। কিন্তু প্রতিদিন সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা করাতে হয়, যা এই হাসপাতালে হয় না। তাই বাইরে গিয়ে বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

e7870598-1342-40aa-b78f-6419fd2d4cc3

পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জের চরহোগলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো কর্নার নেই। ডায়রিয়া ও অন্যান্য সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের পাশাপাশি রাখা হচ্ছে। এতে আমরা শঙ্কিত। কারণ, ডেঙ্গু রোগীরা ঠিকমতো মশারিও টাঙাচ্ছেন না। দ্রুত এখানে একটি ডেঙ্গু কর্নার করে তাঁদের আলাদাভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আকাশ সাহা বলেন, ‘বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ যাচ্ছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ডেঙ্গু মোকাবিলা করে যাচ্ছি। ডেঙ্গু রোগীদের প্লাটিলেট ঠিক আছে কি না, তা দেখতে সিবিসি পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। বর্তমানে যন্ত্রটি না থাকায় এ পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। তবে আমরা দ্রুত এটি চালুর চেষ্টা করছি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে, দ্রুতই ডেঙ্গুর আলাদা কর্নার চালু করা হবে।’

আরও পড়ুন

যবিপ্রবি সংলগ্ন সড়কে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা

জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল রায় বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের মশারি দেওয়া হয়েছে এবং বারবার তা টানিয়ে রাখার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু রোগী সচেতনতার অভাবে মশারি খোলা রাখেন। এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে এবং রোগীদের সচেতন করা হচ্ছে।’

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘জেলায় ডেঙ্গুর প্রভাব বেড়েই চলেছে। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে আমরা সচেতনতামূলক সভা চালিয়ে যাচ্ছি। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতি সপ্তাহে হাসপাতালের আশপাশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সচেতনতা এবং এডিস মশা দমন জরুরি।’

প্রতিনিধি/এসএস