জেলা প্রতিনিধি
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
দেড়শ ভরি সোনা ডাকাতির মামলায় মাগুরায় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা থেকে ভারতীয় সীমান্তের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া প্রায় সাড়ে ৩ কেজি সোনার একটি চালান লুটের ঘটনা থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে অনেকে অনুমান করছেন। লুট করা সোনা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেই মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেন খুন হয়েছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মারুফ হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডাকাতির কিছু সোনার বার জব্দ করা হয়েছে। তবে সোনা ডাকাতি ও যুবদল নেতা হত্যার ঘটনা সম্পর্কিত কি না, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি পুলিশ।
গত মঙ্গলবার সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয় ঝিনাইদহের অনিমেষ মজুমদার (৫৫) নামে এক সোনা ব্যবসায়ীকে। তিনি ঝিনাইদহের গীতাঞ্জলি সড়কের গিনি হাউস নামে একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক।
মাগুরা সদর থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৭ অক্টোবর রাতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মো. মজিবর রহমান নামে এক ব্যক্তি সোনা ডাকাতির অভিযোগে একটি মামলা করেন।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মাগুরা সদর থানার রামনগর বাজার এলাকায় সোনা ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তিনি (মজিবর রহমান) একজন সোনা ব্যবসায়ী। ঘটনার দিন তিনি ঢাকার তাঁতীবাজারের পীযূষ নামে এক সোনা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫০ ভরি সোনা সংগ্রহ করে ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে রওনা হন। বাসটি মাগুরার রামনগর বাজারে পৌঁছালে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিজেদের ‘পুলিশ’ পরিচয়ে বাস থামিয়ে মজিবর রহমানকে জোর করে নামিয়ে অজ্ঞাতনামা স্থানে নিয়ে যায়। ডাকাতরা তার কাছে থাকা সোনা বের করে দিতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা তাকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করে। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তার ডান কাঁধে লাগে এবং হাড় ভেঙে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তী সময়ে ডাকাতরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে তার প্যান্টের বেল্টের নিচে তৈরি পকেট থেকে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যমানের ১৫০ ভরি তেজাবি (স্বর্ণের গুঁড়া জমিয়ে তৈরি) সোনার দণ্ড এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় মজিবর রহমানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাত দল ভয় দেখিয়ে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, তিনি থানায় ওসি হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন, তাই আগের অভিযোগের বিষয়ে নথিপত্র না দেখে কিছু বলতে পারবেন না।
মামলাটি তদন্ত করছেন জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান। তিনি বলেন, এ মামলায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন- পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা মো. জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মারুফ হোসেন ও তার স্বজন ফরিদ মণ্ডল। এর মধ্যে মো. জুয়েল হোসেন ও তৌকির আহমেদকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়। তারা কারাগারে রয়েছেন। তারা দুজনই নিহত যুবদল নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। আর বৃহস্পতিবার গ্রেফতার ফরিদ মণ্ডল একই মামলায় গ্রেফতার মারুফ হোসেনের শ্বশুর।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন শুক্রবার বিকেলে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করছি না। আশা করছি, শিগগিরই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে। গ্রেফতার আসামিদের দেওয়া তথ্যে সোনার পাঁচটি টুকরা জব্দ করা হয়েছে। সেগুলো পরিমাপ করা হচ্ছে, আদালতে উপস্থাপন করা হবে। ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে পুলিশের তদন্ত চলছে।’
২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা শাকের হোসেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও অস্ত্র মামলা করেন।
এ মামলায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ঘটনার পরদিন রাতে রনি শিকদার (৩৮) ও শামীমা তাবাসসুম (৩১) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। রনি শিকদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তারা দুজন এখন পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
এদিকে জেলা শহরে বসবাসকারী যুবদলের কয়েকজন নেতাসহ বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রথম সারির কয়েকজন নেতার লুট করা সোনা ভাগাভাগির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারুফ গ্রেফতারের পর তাদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিনিধি/এলএ